এই সময়: বাংলায় নির্বাচনী প্রচারে এসে সেই 'বুলডোজ়ার' তত্ত্ব শোনা গেল উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মুখে!
রবিবার বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে এসেছিলেন আদিত্যনাথ। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি এবং নন্দকুমার ছাড়াও বাঁকুড়ার তিন জায়গায় জনসভা করেন তিনি।রাজ্য সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করার সঙ্গে বিজেপি এই রাজ্যে এলে যে বুলডোজ়ার নীতি প্রয়োগ হতে পারে, তারইঙ্গিতও দিয়েছেন।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সারমর্ম, বাংলায় কোনও উন্নয়ন হয় না। তাঁর অভিযোগ, এই রাজ্যে উন্নয়নের বদলে 'উসুলি–তন্ত্র' চলছে। তাই বাংলার হারানো গৌরব ফেরাতে পরিবর্তন আনতে হবে। সভায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রামকৃষ্ণের মতো মনীষীদের প্রসঙ্গ টেনে যোগী বলেন, 'বাংলার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে।' এ দিন কাঁথি রেলস্টেশন সংলগ্ন সভামঞ্চে বক্তব্য রাখার সময়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে সভাস্থলের পাশে থাকা দু'টি বুলডোডার দেখিয়ে যোগী বলেন, 'এই বুলডোজ়ার শুধু মাটি খোঁড়ে না। মাফিয়া আর গুন্ডাদের হাড়ও ভেঙে দেয়।'
এ দিন কাঁথির সভায় ছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বাবা শিশির অধিকারী, বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সোমনাথ রায়। এগরা,পটাশপুর, খেজুরি, উত্তর কাঁথি, দক্ষিণ কাঁথি, ভগবানপুর, চণ্ডীপুরের বিজেপি প্রার্থী ও নেতৃত্বরা। সভা চলাকালীন মঞ্চে শুভেন্দু পৌঁছলে নিজের বক্তব্য থামিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান আদিত্যনাথ। নন্দকুমারের সভায় ছিলেন তমলুকের সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, জেলা বিজেপি সভাপতি মলয় সিনহা–সহ একাধিক নেতা-কর্মী।
এর আগে বাঁকুড়ার সোনামুখী, ইন্দাস ও বড়জোড়া, এই তিন কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দিবাকর ঘরামি, নির্মল ধাড়া ও বিল্লেশ্বর সিংহের সমর্থনে পাত্রসায়রে জনসভা করেন আদিত্যনাথ। ভাষণের শেষ লগ্নে তিনি বাংলায় বলেন, 'বাংলা আর চুপ থাকবে না। এ বার খেলা শেষ, উন্নয়ন শুরু।'
উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে বাংলার তুলনা টেনে তিনি বলেন, 'বাংলায় এখন যেমন অরাজকতা, গুন্ডাগিরি চলছে, একই রকম রাজত্ব উত্তরপ্রদেশেও চলত ৮-৯ বছর আগে। কিন্তু সেখানে বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি বদলেছে। যোগীর কথায়, ' এখন নো কারফিউ, নো দাঙ্গা, ইউপি মে হ্যায় সব চাঙ্গা। যত মাফিয়া, জাহান্নমে চলে গিয়েছে। সব নাগরিক সুরক্ষিত। আইনের শাসন তৈরি হয়েছে। অর্থনীতির উন্নতি ঘটেছে। যুবকেরা কাজ পাচ্ছেন। উত্তরপ্রদেশে এখন আর তুষ্টিকরণ হয় না,এখন সন্তুষ্টিকরণ।'