‘আজ নীল রঙে মিশে গেছে লাল...’। রবিবারের বিকেলে রায়গঞ্জের (Raiganj Constituency) মড়াইকুড়ায় থাকলে রূপম ইসলাম নির্ঘাৎ গানের কথাগুলো একটু বদলে দিতেন। তখন প্রচার (West Bengal Assembly Election 2026) প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে কসবার পেট্রল পাম্পের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন বিজেপি প্রার্থী কৌশিক চৌধুরি (BJP Candidate Kaushik Chowdhury)। আচমকাই মুখোমুখি পড়ে যান সিপিএমের জীবানন্দ সিংহ (CPIM Candidate Jibananda Singha)। দেখা মাত্র একে অন্যকে জড়িয়ে ধরলেন। এই দৃশ্য দেখলে রূপম হয়তো গেয়ে উঠতেন, আজ লাল রঙে মিশে গেল গেরুয়া।
রায়গঞ্জ বরাবরই কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। ২০২৪-এর উপনির্বাচন থেকে শুরু করে মোট ১৮টি বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস এখানে জিতেছে মোট ১০ বার। ঘোর বাম জমানা হোক কিংবা তৃণমূলের শুরুর সময় - এই কেন্দ্র কংগ্রেসই ধরে রেখেছিল। ২০২১ থেকে ছবিটা বদলাতে শুরু করে। প্রথমবার রায়গঞ্জের দখল নেয় বিজেপি। সেই সময়ে পদ্মশিবিরে ছিলেন কৃষ্ণ কল্যাণী। তিনি তৃণমূলের কানাইয়া লাল আগরওয়ালকে ২০,৭৪৮ ভোটে হারিয়ে দেন। কানাইয়া ভোটের ঠিক আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।
লোকসভা নির্বাচনে রায়গঞ্জে বিজেপির দাপট বজায় ছিল। এ বারে কৃষ্ণ কল্যাণীকে এই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তাঁর বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন বিজেপির কৌশিক চৌধুরি। সিপিএমের জীবানন্দ সিংহ আছেন ঠিকই, তবে লড়াইটা মূলত তৃণমূল বনাম বিজেপির। এক সময়ের প্রভাবশালী কংগ্রেস এখন প্রায় প্রান্তিক শক্তি। হাত শিবির এ বার মোহিত সেনগুপ্তকে প্রার্থী করেছে। তাঁর জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে কংগ্রেস ঘুরে দাঁড়ালে বিজেপির সুবিধা হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কারণ ভোট ভাগ হবে।
জোরকদমে প্রচার চলছে। এ দিন কসবায় হুড খোলা গাড়িতে চেপে প্রচার করছিলেন বিজেপির কৌশিক। মাড়াইকুড়ায় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বাইক মিছিল ছিল জীবানন্দর। প্রচারের মাঝে আচমকাই দেখা হয় দু’জনের। তার পরেই ধরা পড়ল আলিঙ্গনের ছবি। বেশ কিছুক্ষণ কথাও বললেন তাঁরা। খোঁজ নিলেন একে অন্যের। রাজনীতি নয়, ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় জায়গা করে নিল। দুই প্রার্থীই এটাকে সৌজন্য বললেও, ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ মনে করছেন, তলায় তলায় জোট হলেও হতে পারে।
বিধানসভা ভোটকে আদর্শ ও নীতির লড়াই আখ্যা দিয়ে কৌশিক বললেন, ‘রক্তপাত, হানাহানি মানুষ ভালো ভাবে নেয় না। ধমকানো-চমকানোর রাজনীতি বন্ধ হওয়া উচিত।’ তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে দেখা হলে, তাঁকেও জড়িয়ে ধরবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সিপিএমের জীবানন্দের মুখেও শোনা গেল সৌজন্যের সুর। তাঁর কথায়, ‘ব্যক্তি কৌশিকের সঙ্গে কোনও লড়াই নেই। গরিব মানুষের স্বার্থই আমাদের কাছে সবার আগে।’