• ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগেই ধরতে হবে ‘দাগিদের’, ৯০ জনের তালিকা গেল EC-তে
    এই সময় | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • সোমনাথ মণ্ডল

    ভোটের আগেই ধরে ফেলতে হবে এলাকার দাগি অপরাধীদের। প্রতিবারই নির্বাচনের আগে ‘প্রিভেনটিভ অ্যারেস্ট’ সংক্রান্ত এই নির্দেশ আসে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে। নতুন কিছু নয়।

    কিন্তু, এ বারের নির্বাচনের আবহ ভিন্ন। পুলিশ–প্রশাসনে এত রদবদল, এত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী, এত কড়াকড়ির মধ্যে নতুন নির্দেশিকা কমিশনের — ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগেই গরাদে পুরতে হবে দাগিদের। সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যার অর্থ, যেখানে ২৩ এপ্রিল ভোট সেখানে ১৯ তারিখ এবং যেখানে ২৯ এপ্রিল ভোট সেখানে ২৫ তারিখ রাতের মধ্য ধরতে হবে দাগিদের।

    প্রতিটি থানাকে তাদের এলাকার সবচেয়ে সক্রিয় ১০ জন দাগি অপরাধীর নাম আলাদা করে জমা দিতে বলা হয়েছে কমিশনে। কলকাতায় ভোট ২৯ তারিখ। থানার সংখ্যা ৯১। লালবাজার সূত্রে খবর, কলকাতা পুলিশের সমস্ত থানার তরফে এখনও পর্যন্ত প্রায় মোট ৯০ জন দাগি দুষ্কৃতীর নাম কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। থানা প্রতি এক জনও নয়। কয়েক দিন আগেই শহরের প্রতিটি থানার অ্যান্টি রাউডি অফিসারদের নিজেদের এলাকার দুষ্কৃতীদের তালিকা ‘রাফ রেজিস্টার’-এ নথিভুক্ত করে ডেপুটি কমিশনারদের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রের দাবি, সেই প্রক্রিয়া চলছে জোরকদমে। এই প্রসঙ্গে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ বলেন, ‘প্রতিটি থানায় অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।’

    যদিও এই প্রসঙ্গে উঠে এসেছে সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের কথা। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও দু’মাস ধরে তাঁকে ধরতে পারেনি পুলিশ। অথচ তাঁর যখন ইচ্ছে ফেসবুক লাইভ করে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গ তুললে পুলিশকর্তারা বলছেন, বেলেঘাটা, তপসিয়া–তিলজলা, কড়েয়া, ফুলবাগান, বন্দর, ভাঙড় এলাকায় বিশেষ নজরদারি চলছে। বেহালা, পর্ণশ্রী এবং ঠাকুরপুকুর, গিরিশপার্ক, জোড়াবাগান, কলেজস্ট্রিট এলাকাও পুলিশের নজরে রয়েছে। ওই সমস্ত এলাকাতে বিশেষ অভিযানও চলছে।

    ‘হ্যাবিচুয়াল অফেন্ডার’–দের চিহ্নিত করার পরে তাঁদের সমন পাঠিয়ে সতর্ক করার কথাও কমিশনের তরফে বলা হয়েছে। সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করলে তাঁদের গ্রেপ্তারের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা পুলিশ সুপার এবং পুলিশ কমিশনারদের।

  • Link to this news (এই সময়)