এই সময়: বিজেপি ভোটে জিতে ক্ষমতায় এলে ‘হিসেব হবে’ — বিভিন্ন নির্বাচনী সভা থেকে এই বার্তাই দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিন যত গড়াচ্ছে মোদীর এই ‘হিসেব হবে’ বার্তার সুরও চড়ছে ধীরে ধীরে।
গত ১৪ অগস্ট ব্রিগেডের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী প্রথম তৃণমূলের ‘অত্যাচারী’–দের উদ্দেশে হিসেব নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এর পর থেকে প্রায় প্রতিটি জনসভাতেই তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘বিজেপির নীতি সবকা সাথ, সবকা বিকাশ। কিন্তু বাংলায় আমরা বলছি, সবকা সাথ, সবকা বিকাশ এবং তৃণমূলের অপশাসনের হিসেব।’
রবিবার শিলিগুড়ির কাওয়াখালির নির্বাচনী সভা থেকে সুর আরও চড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিজেপি বাংলায় সরকার গড়ছেই। তারপরে তৃণমূল জমানার গত ১৫ বছরের প্রতিটি মুহূর্তের হিসেব নেওয়া হবে।’ রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বিধানসভা ভোটের মুখে তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল ভাঙতেই হিসেব নেওয়ার হুঁশিয়ারি লাগাতার দিয়ে চলেছেন নমো। একইসঙ্গে এতে বিজেপি কর্মীদের জোশও ভোটের মুখে বাড়বে বলে রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের অভিমত।
যদিও মোদীর এই ‘কৌশল’ ধরে ফেলেছে তৃণমূল। ফলে ভোটের মুখে বিজেপির উপরে পাল্টা চাপ বাড়াতে ৪ মে ভোটের রেজাল্ট বেরনোর পরে প্রয়োজন মতো রবীন্দ্রসঙ্গীতের পাশাপাশি ডিজে বাজানোর কথাও শোনা যাচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্বের মুখে। শনিবারও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ডিজে–বার্তা দিতে দেখা গিয়েছে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে।
তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘মনরেগা প্রকল্পে বাংলার প্রাপ্য কত টাকা উনি আটকে রেখেছেন, আগে তার হিসেব দিন প্রধানমন্ত্রী। প্রতি বছর দু’কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতির হিসেবও কিন্তু দেশের মানুষ চাইছে। প্রধানমন্ত্রীকে তার হিসেবও দিতে হবে।’
বিজেপির এক বর্ষীয়ান নেতার কথায়, ‘আমাদের নির্বাচনী সংকল্পপত্রেও হিসেব নেওয়ার কথা আছে। বিজেপি এ রাজ্যে ক্ষমতায় এলে ১৫ বছরের নানা অন্যায়–অবিচারের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিশন বসবে। এটাই তো হিসেব বুঝে নেওয়া।’