• মহিলা সংরক্ষণ বিল: বিরোধীদের পাশে চেয়ে চিঠি মোদীর
    এই সময় | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, নয়াদিল্লি: মহিলা সংরক্ষণ (সংশোধনী) বিল পাশের জন্যই যে ১৬–১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে, সে ব্যাপারে প্রায় নিশ্চিত বিরোধী শিবির। এ বার সেই বিল পাশে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চেয়ে লোকসভা ও রাজ্যসভার সব সংসদীয় নেতৃত্বকে চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷

    চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর আবেদন, ‘১৬ এপ্রিল থেকে সংসদে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম বিল (মহিলা সংরক্ষণ) সম্পর্কিত একটি ঐতিহাসিক আলোচনার সূত্রপাত হতে চলেছে৷ সংসদের এই বিশেষ অধিবেশন আমাদের গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করার সুবর্ণ সুযোগ৷ এটি এমন একটা মুহূর্ত, যেখানে আমরা সকলকে নিয়ে এগিয়ে যেতে পারি৷ এই উদ্দেশ্যেই আমার এই চিঠি৷’ তাঁর সরকার যে এ বারই নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম (সংশোধনী) বিল পাশ করাতে বদ্ধপরিকর, তা দিন কয়েক আগেই মোদী বিজেপির সব সাংসদকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ইয়ে হি সময়, সহি সময়৷’

    এ বার সব দলের সংসদীয় নেতৃত্বকে লেখা প্রধানমন্ত্রীর চিঠিতেও ‘সঠিক সময়’-এর উল্লেখ রয়েছে। চিঠিতে মোদী ব্যাখ্যা করেছেন, কেন দ্রুত নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম (সংশোধনী) বিল পাশ করে দেশের আইনসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা জরুরি৷ মোদীর কথায়, ‘যে কোনও সমাজ তখনই উন্নতি করে যখন নারীরা এগিয়ে যাওয়ার, সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পান৷ উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে নারীদের পূর্ণ অংশগ্রহণ অপরিহার্য৷ জনজীবনে বোন ও কন্যাদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে৷ ভারতীয় নারীরা আজ মহাকাশ থেকে খেলাধূলো, সশস্ত্র বাহিনী থেকে স্টার্ট আপ— সব ক্ষেত্রে সাফল্যের ছাপ রাখছেন৷ তাঁরা অদম্য পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করছেন৷’ এই মর্মেই প্রধানমন্ত্রীর সংযোজন, ‘২০২৯ সালের লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে নারী সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকা অপরিহার্য৷’ চিঠিতে মোদীর, আবেদন— সংসদের আসন্ন বিশেষ অধিবেশনে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম (সংশোধনী) বিল পাশের ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলের জোটবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন৷ এই মর্মে রবিবার লোকসভা ও রাজ্যসভার সব দলীয় সাংসদের উদ্দেশে তিন লাইনের হুইপ জারি করেছে বিজেপি। বলা হয়েছে, ১৬–১৮ এপ্রিল বিজেপির সব সাংসদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে অবশ্যই সংসদে উপস্থিত থাকতে হবে। এই সময়ে কোনও ছুটির আবেদন গ্রাহ্য হবে না।

    এ দিকে, প্রধানমন্ত্রী যখন মহিলা সংরক্ষণ (সংশোধনী) বিল পাশ করানোর লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দলকে চিঠি লিখেছেন, ঠিক সেই সময়েই মোদীকে চিঠি লিখে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস সভাপতি ও রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে৷ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর প্রশ্ন, ‘৩০ মাস আগে, ২০২৩ সালে সংসদে বিরোধীদের সহায়তায় নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম বিল পাশ হওয়ার পরেও কেন সরকার এতদিন কোনও পদক্ষেপ করেনি? কেন পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের আবহেই সরকার সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে এই বিল পাশ করাতে চাইছে? সরকারের এই অতি–সক্রিয়তা বুঝিয়ে দিচ্ছে— মহিলাদের সশক্তিকরণের নামে এই সরকার আসলে তাদের রাজনৈতিক মাইলেজ কুড়োতে চাইছে৷ বিরোধীদের সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই কী ভাবে মহিলা সংরক্ষণ আইন লাগু করার জন্য সারা দেশে প্রয়োজনীয় আসন পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরুর কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার?’ এই ইস্যুতে ২৯ এপ্রিল ( সব রাজ্যের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরে)–এর পরে যে কোনও দিন সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হোক, তার পর সংসদে বিল আনা হোক— প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে দাবি খাড়গের৷

    খাড়গেকে পাল্টা জবাবি চিঠি লিখেছেন সংসদ বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু৷ তাঁর দাবি, মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে সরকার আলোচনা করতে চেয়েছিল এবং ১৬ মার্চ চিঠি লিখে কংগ্রেস সভাপতি খাড়গে এবং বর্ষীয়ান সাংসদ জয়রাম রমেশের সঙ্গে কথা বলতে চান রিজিজু নিজে৷ এর পরে ২৬ মার্চ খাড়গের সঙ্গে আলাপচারিতায় মহিলা সংরক্ষণ বিলে সংশোধনী আনার জন্য সবাইকে উদ্যোগী হওয়ার কথাও বলেন রিজিজু, চিঠিতে সে কথাও স্মরণ করিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

    মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশকে কেন্দ্র করে এই চিঠি চালাচালি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজধানীর রাজনৈতিক অলিন্দে জল ঘোলা হতে শুরু করেছে। বিষয়টি নিয়ে চুপ করে থাকেনি পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূলও৷ রবিবার এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘অমিত ও নরেন্দ্র, এটা গুজরাট জিমখানা ক্লাব নয়। সংসদ এবং আমাদের দেশের মানুষকে উপহাস করা বন্ধ করুন। পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ু নির্বাচনের আগে এই নাটক ও ভাঁওতাবাজি বন্ধ করুন। আপনাদের উদ্দেশ্য অসৎ।’



  • Link to this news (এই সময়)