তিনি বিজেপির (BJP) প্রার্থী। তিনিই কংগ্রেসেরও (Congress) প্রার্থী। আবার আম আদমি পার্টি (AAP) থেকেও তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে তাঁকে ছাড়া আর কাউকে ভোট দেওয়ার উপায় নেই। তিনি ভরত সিং ভাখলা (Bharat Singh Vakhala)। গুজরাটের (Gujarat) আসন্ন পুরসভা এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনে দাহোদ জেলার পাইপেরো আসন থেকে তিনটি দলের হয়ে তাঁর মনোনয়নপত্র দেখে চমকে গিয়েছে খোদ নির্বাচন কমিশন। শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে।
ভরত দাহোদের বাসিন্দা। পেশায় কৃষক। তবে একলাকায় রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁর নামডাক আছে। লোকের আপদে-বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সমাজসেবাও করেন একটু-আধটু। আগে দু-দু’বার বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছেন। তবে দু’বারই হেরে যান। এখনও পর্যন্ত জয়মালা তাঁর গলায় ওঠেনি।
কংগ্রেসের হাত ধরেই রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন ভরত। ২০১৭ সালে দেবগড় বারিয়া থেকে তাঁকে প্রার্থীও করেছিল হাত শিবির। কিন্তু জিততে পারেননি। এর পরেই দল বদলে আম আদমি পার্টিতে যোগ দেন তিনি। ২০২২ সালে ফের দেবগড় বারিয়া থেকে তাঁকে প্রার্থী করে কেজরিওয়ালের দল। কিন্তু সেবারও শিকে ছেঁড়েনি ভরতের। গত বছর থেকেই তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন বলে শোনা যাচ্ছিল। তবে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেননি তিনি।
এর মধ্যেই জানা গেল, পাইপেরো আসন থেকে তিনটি দলের হয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ভরত। ভোটারদের অবস্থা কাহিল। তাঁরা যে দিকেই তাকান, শুধুই ভরত। যেন পণ করেছেন, যাই হয়ে যাক, ভোট তাঁকেই দিতে হবে। তবে মজার কথা হলো, কোনও দলই প্রার্থী করেনি তাঁকে। ১৫ এপ্রিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। এর মধ্যে যদি বিজেপি, কংগ্রেস বা আপ তাঁর মনোনয়নের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়, তা হলেই কেল্লা ফতে।
পাইপেরো বিজেপি নেতা বাচুভাই খাবাড়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখনও পর্যন্ত এই আসনে ১১ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছেন বিজেপির ৫ জন, কংগ্রেসের দু’জন এবং আপের একজন প্রার্থী। তাই ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত হয়ত আপের টিকিটেই দাঁড়াবেন তিনি। উল্লেখ্য, আগামী ২৬ এপ্রিল গুজরাটের ১৫টি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, ৩৪টি জেলা পঞ্চায়েত, ২৬০টি তালুকা পঞ্চায়েত এবং ৮৪টি পুরসভায় ভোট গ্রহণ হবে। ফলপ্রকাশ হবে ২৮ এপ্রিল।