এই সময়, জলপাইগুড়ি: লাল রঙের মলাট। সারিবদ্ধ ভাবে ডাঁই করা ছোট-বড় জাবেদা এবং খতিয়ান খাতার স্তূপ। তার পিছনে বসা কাঁচাপাকা চুলের এক প্রৌঢ়। ক্রেতার দেখা নেই। চৈত্রের গরমে ঘাম মুছতে মুছতে এ দিক-ও দিক তাকাচ্ছেন। হয়তো ক্রেতার অপেক্ষা করছেন।
কাছে এগোতেই হাসি মুখে ভাঙা ভাঙা বাংলায় জিজ্ঞাসা করলেন, 'ক'টা খাতা দেবো?' খাতা লাগবে না শুনে মুখের হাসি কোথায় যেন মিলিয়ে গেল মহম্মদ আবিরের। তার পরে নিজেই বললেন, 'বাপ-ঠাকুরদার আমলের ব্যবসা। লাভ না-হলেও বন্ধ করতে মন চায় না।'
বিহারের মুজফ্ফরপুর জেলার বহরমপুরা গ্রামের বাসিন্দা আবিরের বয়স এখন ৬৭। সেই ২৫ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে প্রথমবার জলপাইগুড়ি শহরে এসেছিলেন। তার পর থেকে প্রতি বছর পয়লা বৈশাখের সময়ে জলপাইগুড়িতে আসেন। বছরের অন্য সময়ে বিহারে বিভিন্ন অফিসে বাইন্ডিং-এর কাজ করে সংসার চালান তিনি।
পয়লা বৈশাখের সময়ে দু'মাসের জন্য জলপাইগুড়ির সমাজপাড়া মোড় থেকে মার্চেন্ট রোডের জোড়াবাতি মোড়ের বাঁ দিকের ফুটপাথই হয়ে ওঠে তাঁর হালখাতার দোকানের অলিখিত ঠিকানা। কম্পিউটারের 'গুঁতোয়' অনেক বছর আগেই হালখাতার ব্যবহার উঠে গিয়েছে। ফলে ব্যবসাও আর আগের মতো নেই। তবু কিছু গ্রাহক এখনও নিয়ম করে জাবেদা খাতা কেনেন। তাঁদের জন্যই বংশানুক্রমিক এই ব্যবসা বন্ধ করতে চান না আবির।