পয়লা বৈশাখে তাপপ্রবাহের সতর্কতা, ৫ জেলায় অস্বস্তিকর গরমের পূর্বাভাস
আজ তক | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
চৈত্রের শেষ লগ্নেই পশ্চিমবঙ্গে গরমের দাপট ফের বাড়তে শুরু করেছে। বৈশাখের তীব্র দাবদাহের আগাম ইঙ্গিত দিচ্ছে এই চৈত্রের রোদ। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আপাতত বৃষ্টির কোনও বড় সম্ভাবনা নেই, বরং তাপমাত্রা আরও বাড়বে।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গেছে, উত্তর-পশ্চিম বিহার থেকে মণিপুর পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে, যার প্রভাবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শুষ্ক গরম হাওয়া ঢুকছে। এর ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতাও বাড়ছে, যা গরমের অস্বস্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। ১৪ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমান, এই জেলাগুলিতে সবচেয়ে বেশি গরমের দাপট দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই অস্বস্তিকর গরম বজায় থাকবে। যদিও কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তাতে তাপমাত্রা কমার বদলে উল্টে অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গেও তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছে। আগামী কয়েক দিনে ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি পর্যন্ত পারদ চড়তে পারে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং-সহ একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতাতেও গরমের প্রভাব স্পষ্ট। ইতিমধ্যেই শহরের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি ছুঁয়েছে, এবং সপ্তাহের মাঝামাঝি তা ৩৭ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস। বাতাসে আর্দ্রতার কারণে ‘হিউমিড হিট’ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় গরম আরও কষ্টদায়ক হয়ে উঠছে।
আবহাওয়া দফতরের মতে, কালবৈশাখীর মরসুম চললেও এখন আর তেমন বিস্তৃত বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। কোথাও কোথাও স্থানীয়ভাবে বজ্রঝড় হতে পারে, তবে তা সাময়িক এবং সীমিত পরিসরেই থাকবে।
এই পরিস্থিতিতে বিশেষ সতর্কতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত রোদে না বেরোনো, পর্যাপ্ত জল পান করা এবং হালকা পোশাক পরার পরামর্শ দিয়েছেন আবহবিদরা।
সব মিলিয়ে, চৈত্রের শেষ থেকেই যে তীব্র গরমের ইঙ্গিত মিলছে, তাতে বৈশাখে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।