স্কুলে গান-বাজনার শিক্ষকই নেই, ১৫৮ কোটি টাকার বাদ্যযন্ত্র কিনেছে বিজেপি জোট সরকার! বিহারে ‘সংগীত দুর্নীতি’র অভিযোগ তেজস্বী যাদবের
বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
পাটনা: বিহারে জঙ্গলরাজ শেষ। এখন ‘সুশাসন’ চলছে। মঞ্চ থেকে বারবার একথাই বলেছেন নরেন্দ্র মোদি ও নীতীশ কুমার। পদ্ম চক্রব্যূহে পড়ে নীতীশ এখন কোণঠাসা। তবে প্রচারের ঢাক-ঢোল পেটাতে কোনোরকম খামতি রাখেন না মোদি-শাহর নেতামন্ত্রীরা। এরইমাঝে বিহারের এনডিএ সরকারের বড়োসড়ো দুর্নীতির পর্দা ফাঁস করলেন বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব। রবিবার লালুপুত্রের অভিযোগ, রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে গান-বাজনার শিক্ষক নেই। অথচ বাদ্যযন্ত্র কেনার নামে প্রায় ১৫৮ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকার দুর্নীতি করেছে বর্তমান সরকার।
এদিন তেজস্বী যাদব বলেন, ‘এনডিএ সরকারের আমলে দুর্নীতির শিখরে পৌঁছেছে বিহার। আমজনতার টাকা লুট করে চরম অরাজকতা চলছে। তথ্য বলছে, রাজ্যে ৭৬ হাজারের বেশি প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্কুলে কোনো গান-বাজনার শিক্ষকই নেই। অথচ ওই স্কুলগুলির জন্য বাদ্যযন্ত্র কিনতে ১৫৮ কোটির খরচের হিসাব দেখিয়েছে সরকার। সেতার, সরোদ, সারঙ্গী, বেহালা, বাঁশি, সানাই, হারমোনিয়াম, তবলা, ঢোলক, ঘণ্টা। খাতায়-কলমে তালিকাটা লম্বা। কিন্তু স্কুলের তরফে কখনও কোনো বাদ্যযন্ত্র কেনার কথা বলা হয়নি। এই সংক্রান্ত কোনো নথিও নেই। বাচ্চাদের শেখানো তো দূর শিক্ষকদেরও কোনো প্রশিক্ষণও হয়নি। আসলে এগুলি ক্লাসরুমের জন্য কেনা হয়নি। দুর্নীতির সংগ্রহশালা সাজাতে কেনা হয়েছে।’
তেজস্বী যাদবের অভিযোগ, মন্ত্রী থেকে প্রশাসনের আধিকারিকরা সকলেই কমিশন পেয়েছেন। দুর্নীতিতে ভরা সরকারের কাছে অবশ্য এটাই প্রত্যাশিত। এনিয়ে অবিলম্বে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সহযোগীদের এর জবাবদিহি করতে হবে।’ পাশাপাশি শিক্ষক শূন্যপদ ও বেকারত্বর ইস্যুতেও সরব হয়েছেন আরজেডি নেতা।