সব বুথই স্পর্শকাতর ধরে নিয়ে বাংলায় নির্বাচনে যাচ্ছে কমিশন
বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর পরবর্তী পর্যায়ে পরিস্থিতি যথেষ্ট বদলেছে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন। আর এই অবস্থায় রাজ্যের ১০০ শতাংশ বুথকেই স্পর্শকাতর ধরে নির্বাচন করতে চাইছে তারা। শুধু স্পর্শকাতর বুথই নয়, রাজ্যে অতিস্পর্শকাতর বুথের সংখ্যাও অনেকটাই বাড়তে চলেছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর।
সাধারণত ভোট ঘোষণার কিছুটা সময় আগে থেকেই স্পর্শকাতর বুথ নির্বাচন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অতীত নির্বাচনে হিংসার ইতিহাস এবং দৈনন্দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাচাই করে সাধারণত স্পর্শকাতর বুথ নির্ধারণ করা হয়। সেইমতো এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রাথমিক পর্যায়ে ৫২ থেকে ৫৫ শতাংশ বুথকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করেছিল কমিশন। মূলত কোচবিহার, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, দুই ২৪ পরগনা, বীরভূম, নদীয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা এবং হাওড়া হুগলির একাংশে তুলনায় স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা বেশি ছিল। এই জেলাগুলিতেই একাধিক অতিস্পর্শকাতর বুথও চিহ্নিত করেছিল কমিশন।
সূত্রের খবর, এসআইআর পরবর্তী পর্যায়ে রাজ্যের পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে বলে মনে করছে কমিশন। বিশেষত বিচারাধীন তালিকা থেকে লক্ষাধিক নাম বাদ পড়ায় বিভিন্ন জায়গায় ভোটের দিন গোলমালের আশঙ্কা করছে কমিশন। বিশেষত মালদহের ঘটনার পর কমিশন আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের সবকটি বুথকেই স্পর্শকাতর ধরে এগোতে চাইছে তারা। সূত্রের খবর, প্রতিটি জেলাকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্পর্শকাতর বুথগুলিতে যে ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয় এবার সমস্ত বুথেই তা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দশটি বুথপিছু থাকছে একটি করে ক্যুইক রেসপন্স টিমের গাড়ি। ওই গাড়িগুলোর মাথায় লাগানো থাকবে ক্যামেরা। ওই গাড়িগুলির লাইভ ওয়েব কাস্টিংয়ের মাধ্যমে সবকিছুই নজরবন্দি করা হবে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রায় সমস্ত এলাকা নিজেদের দখলে নিয়ে ফেলেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোটের দিন শুধুমাত্র বুথে নয়, বাহিনীকে সর্বত্র ব্যবহার করারই নির্দেশিকা জারি হয়েছে।
রবিবার নির্বাচন কমিশন, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে এক যৌথ বৈঠক হয়। সেখানে কমিশনের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যে-সমস্ত এলাকায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা বেশি সেখানে পর্যাপ্ত সংখ্যায় মহিলা সিএপিএফ বা কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখতে হবে। স্পর্শকাতর বা গোলমেলে জায়গাতেও বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে পাহারা দিতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। নির্বাচন সংক্রান্ত ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে সচেতন ও সতর্ক রাখতে প্রচার চালাতে হবে স্থানীয় ভাষায়।