• ভোটাধিকার কেড়ে ফের মতুয়াদের নাগরিকত্বের ‘টোপ’ দিলেন মোদি, পাহাড়ের সমস্যা নিয়ে নেই কোনো উচ্চবাচ্য
    বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ভোটের ময়দানে মতুয়াদের সামনে ফের ‘নাগরিকত্বের গাজর’ ঝুলিয়ে দিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী! এসআইআর করে হাজার হাজার মতুয়ার ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পর তাঁদের নাগরিকত্ব প্রদানের আশ্বাস দিলেন নরেন্দ্র মোদি! রবিবার শিলিগুড়িতে দলের নির্বাচনি সভা এই আশ্বাস দেন তিনি। যা নিয়ে তৃণমূল সব বিরোধীদের কটাক্ষ, এটাই এখনও পর্যন্ত ভোটের বাজারে সেরা ‘টোপ’! তাছাড়া, শিলিগুড়িতে সভা করলেও এদিন প্রধানমন্ত্রী পাহাড়ের সমস্যা নিয়ে নিশ্চুপ ছিলেন। তাঁর ভাষণে কর্মসংস্থান নিয়েও কোনো উচ্চবাচ্য ছিল না। 

    রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে মতুয়া ও নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষ। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, ডাবগ্রাম, ফুলবাড়ি, রাজগঞ্জ, মাটিগাড়া, নকশালববাড়ি প্রভৃতি এলাকায় মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষের বসবাস। এসআইআরের মাধ্যমে মতুয়া সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ট্রাইবুনাল তাঁদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিলেও তাঁরা এবার ভোট দিতে পারবেন না বলেই খবর।

    মতুয়ারা এনিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ। এই আবহে এদিন শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে কাওয়াখালির সভা থেকে মতুয়াদের পাশে থাকার বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ‘তৃণমূল মিথ্যার ফ্যাক্টরি। সিএএর মাধ্যমে মতুয়াদের দেশের নাগরিকের সমান অধিকারের গ্যারান্টি দিচ্ছি। আপনাদের সঙ্গে আছি।’ 

    এনিয়ে তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা চেয়ারম্যান (সমতল) সঞ্জয় তিব্রেওয়াল বলেন, ‘ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পর এখন মতুয়াদের প্রতি সহানুভূতি দেখাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা সেরা নির্বাচনি টোপ। এতে চিঁড়ে ভিজবে না।’ সিপিএমের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক সমন পাঠক বলেন, ‘ভারতীয়দের অবৈধ বানিয়ে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা ভাঁওতা ছাড়া আর কিছুই নয়।’ 

    এদিন জলপাইগুড়ি,  ময়নাগুড়ি, রাজগঞ্জ, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, মালবাজার, নাগরাকাটা, ধূপগুড়ি, মেখলিগঞ্জ, শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, ফাঁসিদেওয়া, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং ও চোপড়া—এই ১৫টি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে সভার আয়োজন করেছিল বিজেপি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতাজুড়ে ছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ। দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ, মাদ্রাসার বরাদ্দ, উত্তরবঙ্গের বরাদ্দ, চা বাগান, রাজবংশী, আদিবাসী ইস্যু, চিকেন নেকের নিরাপত্তা, সেভক-রংপো রেলপথ ইত্যাদি বিষয় উঠে আসে তাঁর ভাষণে। ক্রিকেটার রিচা ঘোষ ও টেবল টেনিস খেলোয়াড় মান্তু ঘোষের নাম উল্লেখ করে স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি তৈরির কথা ঘোষণা করেন তিনি। কিন্তু সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান, ১১টি জনজাতি ও গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি, কর্মসংস্থান ইত্যাদি ইস্যুতে টুঁ শব্দ করেননি। 

    এনিয়েই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জিটিএর চিফ এগজিকিউটিভ অনীত থাপার দল বিজিপিএমের মুখপাত্র শক্তিপ্রসাদ শর্মা বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে দার্জিলিং লোকসভা আসন কব্জায় রাখলেও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ছাড়া পাহাড়বাসীকে কিছু দিতে পারেনি বিজেপি। এই জনসভা থেকে গোর্খাদের দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিছু বলবেন, তা আমরা আশা করিনি। কারণ, গোর্খাদের বিষয়ে ওঁদের আর আগ্রহ নেই। বিজেপির এই চরিত্র বোঝা উচিত তাদের সঙ্গে থাকা পাহাড়ের নেতাদের।’ 

    তৃণমূলের জেলার নেতা বেদব্রত দত্ত বলেন, ‘অনুপ্রবেশ সহ আরও কিছু বস্তাপচা ভাষণ ছাড়া কোনো দিশা দিতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী।’ সিপিএমের জেলা সম্পাদক বলেন, ‘শুধুমাত্র আরএসএসের অ্যাজেন্ডা অনুযায়ী মেরুকরণের রাজনীতি কায়েম করার জন্য ভাষণ দিয়েছেন মোদি।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)