• নারী-স্বাধীকার নিয়ে ঢক্কানিনাদই সার, উত্তরবঙ্গের ৫৪ আসনে পদ্মের মহিলা প্রার্থী চার
    বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: নারী-স্বাধীকার নিয়ে বিজেপির ‘গালভরা’ বক্তব্যই সার। মহিলাদের প্রগতি কিংবা ক্ষমতায়ন ঘিরে অনেক কথা বললেও পদ্মপার্টির প্রার্থী তালিকায় ‘ব্রাত্য’ খোদ নারীরাই। নিজেদের শক্তি যেখানে সবচেয়ে বেশি বলে দাবি করে গেরুয়া শিবির, সেই উত্তরবঙ্গে ৫৪টি আসনের মধ্যে মাত্র চারটিতে এবার মহিলাদের টিকিট দিয়েছে বিজেপি।

    উত্তরের আট জেলার মধ্যে মালদহ, দক্ষিণ দিনাজপুর, দার্জিলিং (সমতল), আলিপুরদুয়ারের মতো জেলায় পদ্ম পার্টির একজনও মহিলা প্রার্থী নেই। উল্টোদিকে, এই সমস্ত জেলায় একাধিক আসনে মহিলা প্রার্থী রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। ভোটের ময়দানে এনিয়ে তোপ দাগতে ছাড়ছে না জোড়াফুল শিবির। তাদের বক্তব্য, নারীদের সম্পর্কে বিজেপির যত কথা, সবটাই তাদের ইস্তাহার-বন্দি। বাস্তবে বিজেপি যে মহিলাদের বরাবর পিছনের সারিতে রাখতে চায়, তা তাদের প্রার্থী তালিকাতেই স্পষ্ট। যদিও এমনটা মানতে নারাজ গেরুয়া শিবির। তাদের সাফাই, আসলে যেখানে যাঁকে প্রার্থী করলে জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে পুরুষ, মহিলা দেখা হয়নি। 

    উত্তর ও গৌড়বঙ্গ মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি আসন মালদহে। এই জেলায় মোট ১২টি কেন্দ্র। অথচ একটিতেও পদ্ম প্রার্থী হিসাবে শিঁকে ছেঁড়েনি মহিলাদের। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের ‘সৈনিক’ হিসাবে ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীকে মালদহের চারটি আসনে ভোট-যুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মহিলা প্রার্থীরা। একই ছবি দক্ষিণ দিনাজপুরেও। এই জেলায় ছ’টি আসনের একটিতেও বিজেপির মহিলা প্রার্থী নেই। অথচ তৃণমূলের মহিলা প্রার্থী তিনজন। উত্তর দিনাজপুরে ন’টি কেন্দ্রের মধ্যে একমাত্র ইটাহারে একজন মহিলাকে টিকিট দিয়েছে গেরুয়া শিবির। গোটা গৌড়বঙ্গের মধ্যে পদ্ম শিবিরে মহিলা প্রার্থী বলতে তিনিই সবেধন নীলমণি। 

    উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় বিজেপির মহিলা প্রার্থী মাত্র তিনজন। দার্জিলিং সমতলে তিনটি কেন্দ্রের একটিতেও পদ্ম পার্টির মহিলা প্রার্থী নেই। জলপাইগুড়ির সাতটি আসনের মধ্যে একমাত্র ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে বিজেপির মহিলা প্রার্থী দলের বিদায়ী বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়। আলিপুরদুয়ারের পাঁচটি আসনের একটিতেও বিজেপির কোনো মহিলা প্রার্থী নেই। কোচবিহারের ন’টি আসনের মধ্যে দু’টিতে পদ্ম প্রার্থী হিসাবে শিকে ছিঁড়েছে দু’জনের। এর মধ্যে অবশ্য মালতী রাভা রায় তুফানগঞ্জে বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক। শীতলকুচিতে এবার পদ্মের টিকিট পেয়েছেন সাবিত্রী বর্মন। 

    তৃণমূলের অবশ্য গোটা উত্তরবঙ্গে ১০ জন মহিলা প্রার্থী। শুধুমাত্র টিকিট দিয়ে রাজনীতির ময়দানে নারী-শক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করাই নয়, উত্তরের মাটিতে যেসব মহিলা জোড়াফুলের প্রার্থী হয়েছেন, সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে উঠে এসেছেন তাঁরা। এর মধ্যে যেমন ছাপোষা বধূ রয়েছেন, তেমনই আছেন এশিয়াডে সোনাজয়ী স্বপ্না বর্মনের মতো দেশের গর্ব। রয়েছেন সংখ্যালঘু, রাজবংশী সহ সব সম্প্রদায়ের মহিলা। 

    তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর তোপ, বিজেপি মুখে নারী-ক্ষমতায়ন, মহিলাদের সংরক্ষণ নিয়ে অনেক কথা বলে, কিন্তু সবটাই যে ‘জুমলা’, তা উত্তরবঙ্গে পদ্ম পার্টির প্রার্থী তালিকাতেই স্পষ্ট। আসলে বিজেপি চায় না সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রের পাশাপাশি রাজনীতিতেও মহিলারা সামনের সারিতে আসুন। 

    বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি তথা দলের ফালাকাটার প্রার্থী দীপক বর্মনের সাফাই, নারী-স্বাধীকার, মহিলাদের ক্ষমতায়ন নিয়ে যদি কেউ ভেবে থাকে, সেটা বিজেপি। ভোটের ময়দানে পুরুষ-মহিলা দেখে প্রার্থী নির্বাচন হয়নি। যেখানে যাঁকে প্রার্থী করলে দল জিততে পারে, সেখানে তাঁকেই টিকিট দেওয়া হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)