সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: ‘ মহাত্মা গান্ধী দেশদ্রোহী’। প্রচারে গিয়ে প্রকাশ্য সভায় জাতির জনককে নিয়ে এমনই ‘অপমানজনক’ মন্তব্য করলেন ধূপগুড়ির বিজেপি প্রার্থী নরেশচন্দ্র রায়। নিমেষে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। নিন্দার ঝড় ওঠে রাজ্যজুড়ে। ভিডিয়োতে বিজেপি প্রার্থীকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘ওই যে মহাত্মা গান্ধী, তিনি একজন দেশদ্রোহী। তাঁর জন্যই দেশভাগ হয়েছিল।’ যদিও ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’।
বিজেপি সূত্রে খবর, শনিবার রাতে বারোঘরিয়া পঞ্চায়েত এলাকায় ভোট প্রচারে গিয়ে গান্ধীজিকে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেন নিজেকে প্রাক্তন সেনাকর্মী বলে পরিচয় দেওয়া ধূপগুড়ির বিজেপি প্রার্থী। তাঁর সেই বক্তব্যের ভিডিয়ো গেরুয়া শিবিরেরই এক কর্মী সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। মুহূর্তে ভাইরাল হয় সেটি। এরপরই প্রবল চাপে পড়ে যায় বিজেপি নেতৃত্ব। পদ্মপার্টির স্থানীয় নেতা-নেত্রীরা বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ আঁটেন। কেন গান্ধীজিকে নিয়ে এমন মন্তব্য করলেন তিনি, তা জানতে ওই প্রার্থীকে কয়েকবার ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি। এমনকী মেসেজেরও জবাব মেলেনি ।
তবে, তাঁর মন্তব্য যে দলকে চরম অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে, গেরুয়া নেতৃত্বের কথাতেই তা স্পষ্ট। বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি দীপক বর্মন বলেন, যিনি ওই মন্তব্য করেছেন, জবাব দেওয়ার দায়ভার তাঁকেই নিতে হবে। এনিয়ে আমি কিছু বলব না। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি শ্যামল রায়ের অবশ্য গা বাঁচানো জবাব, ধূপগুড়ির প্রার্থী কী বলেছেন জানা নেই। তবে, মহাত্মা গান্ধী জাতির জনক।
এদিকে, বিজেপি প্রার্থীর মন্তব্যের প্রতিবাদে সরব হয়েছে কংগ্রেস ও তৃণমূল। রবিবার সন্ধ্যায় এনিয়ে ধূপগুড়িতে ধিক্কার মিছিল করেন তৃণমূল কর্মীরা। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের আক্রমণ, মহাত্মা গান্ধী সম্পর্কে যিনি এ ধরনের মন্তব্য করেছেন, কোনও নিন্দাই তাঁর জন্য যথেষ্ট নয়। রাজ্যের যে কেন্দ্রেই হোক না কেন, মানুষ যেন ওই দলকে একটিও ভোট না দেন।
দু’দিন আগেই ধূপগুড়ির বিজেপি প্রার্থী থানায় গিয়ে পুলিশকর্মীদের ‘হুমকি’ দিয়ে বিতর্কে জড়ান। এনিয়ে বিক্ষোভ, আন্দোলন হয়। সেই রেশ না কাটতেই এবার গান্ধীজিকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় ফের মুখ পুড়ল গেরুয়া শিবিরের। এমনিতেই ধূপগুড়ির দলীয় প্রার্থীকে চেনাতে বাড়ি বাড়ি প্রার্থীর ‘বায়োডেটা’ বিলি করতে হচ্ছে পদ্মকর্মীদের। তার উপর তাঁকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক দানা বাঁধায় ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা। জাতির জনককে নিয়ে প্রার্থীর বেফাঁস মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দলের অন্দরে এতটাই
অসন্তোষ তৈরি হয়েছে যে, তাঁর সঙ্গে প্রচারে না যাওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীদের বড় অংশ। তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক রাজেশ সিংয়ের তোপ, দেশের মনীষী, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অসম্মান করা, দেশদ্রোহী বলে দাগিয়ে দেওয়া, এটাই তো বিজেপির সংস্কৃতি। ফলে ধূপগুড়ির বিজেপি প্রার্থীও সেটাই করেছেন।