নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বাঙালির কাছে ১ বৈশাখের গুরুত্ব অন্যরকম। শুধু মন্দিরে পুজো দেওয়া নয়, এদিন পছন্দের মাছ, খাসির মাংস দিয়ে ভূরিভোজ সারতে পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। মাছ মানেই শুভ। মিষ্টিমুখও করা চাই। দোকানে দোকানে ঘুরে মিষ্টির প্যাকেট আর ক্যালেন্ডার জোগাড়ের রেওয়াজও বহুদিনের। বাঙালির এই সংস্কৃতি অটুট থাকুক। এমনটাই চাইছেন সকলে। কিন্তু বাংলার সংস্কৃতিতেও ঢুকেছে রাজনীতি। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে। বাংলা ভাষা বলাটাই তাদের কাছে অপরাধ। ভিন রাজ্যে বাংলা বললেই বাংলাদেশি তকমা দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি যদিও এই দাবি মানতে নারাজ। মাছ উৎপাদনের স্বনির্ভর না হওয়ার জন্য কয়েকদিন আগে হলদিয়ার সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তৃণমূলকে তোপ দাগেন। বাঙালিদের উপর অত্যাচারের কথাও গেরুয়া শিবির মানতে নারাজ।
তবে যুক্তিতর্ক যাই চলুক না কেন, বছরের প্রথম দিনটাই রাজ্যের যুযুধান দুই দলের প্রার্থীরা এদিন সকালে মন্দিরে যাওয়ার কর্মসূচি রেখেছেন। বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী খোকন দাস বলেন, সবার মঙ্গল কামনা করে প্রতি বছর পয়লা বৈশাখ পুজো দিই। কঙ্কালেশ্বরী, সর্বমঙ্গলা এবং বড় মা কালী মন্দিরে যাই। এবারও যাব। মায়ের কাছে প্রার্থনা করব, রাজ্যে যাতে কোনো অশুভ শক্তির উত্থান না হয়। বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র বলেন, মায়ের কাছে রাজ্যের অশুভ শক্তি বিনাশের জন্য প্রার্থনা করব। গলসির তৃণমূল প্রার্থী রাজুপাত্র বলেন, ১ বৈশাখের সকালটা মন্দিরে না গেলে মন ভালো লাগে না। এদিন মন্দিরে পুজো দিয়েই কর্মসূচি শুরু করব। মেমারি তৃণমূল প্রার্থী রাসবিহারী হালদার বলেন, আমরা সর্বধর্মে বিশ্বাসী। বিজেপি শুধু বিভাজন করে। আমরা মন্দিরে গিয়ে সবার মঙ্গল কামনা করি।
জেলার বাসিন্দারা বলছেন, রাজনীতি যাই হোক না কেন, বাংলার সংস্কৃতিতে যেন কোনো আঘাত না আসে। এ রাজ্যে যেভাবে বছরের প্রথম দিনটা উদযাপন করা হয় তা অন্য কোথাও হয় না। একমাত্র বাঙালিরাই জানে ১ বৈশাখের গুরুত্ব। নতুন পোশাক পরে মন্দিরে যাওয়া রেওয়াজ নতুন প্রজন্ম রপ্ত করেছে। কোনো রাজনৈতিক দল যেন বাইরের সংস্কৃতি চাপিয়ে দিয়ে আগামীতে এই দিনটার গুরুত্ব নষ্ট না করে। তৃণমূল বলছে, বিজেপির বহিরাগত নেতারা এখন এই রাজ্যে ডেরা বেঁধেছে। তারা জানেই না পয়লা বৈশাখ কী হয়। অথচ হিন্দু ধর্ম বাঙালি সংস্কৃতি নিয়ে ওরা কথা বলে। বিজেপি বাংলার সংস্কৃতি নষ্ট করতে চাই। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, তৃণমূলের কাজই হল গুজব রটানো। বিজেপি কখনওই বাংলা সংস্কৃতি নষ্ট করে না। সেটা তৃণমূলই করে। সেই কারণে বিভিন্ন পুজোর জন্য অনুমতি নিতে উদ্যোক্তাদের এখন কালঘাম ছোটে। জেলার বাসিন্দারা বলেন, ক্যালেন্ডার, মিষ্টির প্যাকেট মন্দিরে মন্দিরে ভিড় ভিড় ১ বৈশাখের এই ছবি যেন আগামী দিনেও বজায় থাকে। প্রচারে আউশগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী শ্যামাপ্রসন্ন লোহার।-নিজস্ব চিত্র