বাঁকুড়ায় গরমে আর কষ্ট নয়, প্রতি পরিবারেই নলবাহিত পরিস্রুত পানীয় জল: মমতা
বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়,উজ্জ্বল পাল,ছাতনা ও ওন্দা: গরমে এবার আর কষ্ট নয়, ক্ষমতায় এলে বাঁকুড়ার প্রতিটি পরিবারে নলবাহিত পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হবে। রবিবার ছাতনায় নির্বাচনি জনসভায় এই আশ্বাস দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি ওন্দা স্টেডিয়ামে দলীয় প্রার্থী সুব্রত দত্ত ও ছাতনার শালচূড়া ফুটবল ময়দানে তৃণমূল প্রার্থী স্বপন মণ্ডলের সমর্থনে নির্বাচনি সভা করেন। দুই সভাতেই ব্যাপক ভিড় হয়।
এদিন ওন্দার সভায় দলীয় কর্মী সমর্থকের ভিড় উপচে পড়ে। ভিড়ের কারণে একসময় বন্ধ থাকা গ্যালারি দর্শকদের জন্য খুলে দিতে হয়। সেখানে মমতা দলের কর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, রাত ৩টে বাজলেও গণনাকেন্দ্র ছাড়বেন না। লোকসভা ভোটে গণনার দিন বিষ্ণুপুরে দলীয় কর্মীরা গণনাকেন্দ্র ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। সেই জন্যই বিষ্ণুপুরে পুনরায় গণনায় ওরা হারিয়ে দিয়েছিল। বিজেপি এবারও এমনটা করবে। তাই রাত ২টো বাজুক আর ৩টে বাজুক একবারে জয়ের পর সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে তবেই গণনাকেন্দ্র থেকে বেরবেন।
ওন্দার সভা থেকে মমতা ছাতনায় পৌঁছান। তীব্র রোদ উপেক্ষা করে মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার জন্য দীর্ঘক্ষণ ছাতনাবাসী দাঁড়িয়ে থাকেন। তৃণমূলনেত্রীর হেলিকপ্টার ময়দানের আকাশের কোণে চক্কর কাটতেই সভাস্থল উদ্বেলিত হয়ে পড়ে। সকলে হাত নেড়ে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। মুখ্যমন্ত্রীও মঞ্চে উঠে পাল্টা নমস্কার করেন। রোদের মধ্যে থাকা লোকজনকে ছাউনির নীচে বসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। তীব্র গরমে যাতে কেউ অসুস্থ হয়ে না পড়েন, তারজন্য মুখ্যমন্ত্রী এদিন সভায় উপস্থিত তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের সতর্ক করে দেন। তিনি বলেন, ঝাড়গ্রামে কয়েকজন ওআরএস ভেবে বিষাক্ত কিছু খেয়ে ফেলেছিলেন। তাঁদের হাসপাতালে ভরতি করতে হয়। চিকিৎসার ব্যাপারে আমি নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছি। ওই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, তা সকলকে দেখতে হবে। কিছু খাওয়ার আগে ভালো করে পরীক্ষা করবেন। তৃণমূলের এজেন্টদের সতর্ক করে দলনেত্রী বলেন, ভোটের আগের রাতে কেউ চা খাওয়াতে চাইলেও খাবেন না। চা খাইয়ে ভোট লুট করে নিয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সরকার গত কয়েকবছরে ১ কোটি ৩০ লক্ষ পাকা বাড়ি করেছে। ক্ষমতায় এলে কারও বাড়ি কাঁচা থাকবে না। সকলেই মাথার উপর ছাদ পাবেন। বাঁকুড়া পানীয় জল প্রকল্পের জন্য আমরা হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ করেছি। এখনো কিছু জায়গায় সমস্যা রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের গরমে কষ্ট পেতে হয়। আমাদের সরকার গঠন হলে আর কাউকে কষ্ট পেতে হবে না। জেলার প্রতিটি বাড়িতে নলবাহিত পানীয় জল পৌঁছে যাবে। চাষিদের জন্য আমরা দু’হাজার টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল মকুব করেছি। চাষিদের সুবিধার্থে কৃষকবন্ধু সহ অনেক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ভিনরাজ্যে গেলে ছাতনা সহ আশপাশের শ্রমিকদের অত্যাচার করা হয়। তাঁরা কেনো নির্যাতনের শিকার হন, তা বিজেপি নেতারা প্রচারে এলে জিজ্ঞাসা করবেন। এই বলে তিনি ছাতনার বাসিন্দাদের জোড়াফুল চিহ্নে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তৃণমূল সুপ্রিমো সভায় উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কী ছাতনাবাসী এবার আমাদের ভোট দেবেন তো?‘ সকলে সমস্বরে জানান, ‘হ্যাঁ, ভোটটা এবার জোড়াফুলেই পড়বে।’