• বিজেপি তাড়াও বাংলা বাঁচাও, হুংকার মমতার, ‘মোদি-বিদায়ের সংকল্প নিন এই পয়লা বৈশাখেই’
    বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • সুখেন্দু পাল, সুমন তেওয়ারি, রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, খণ্ডঘোষ, আসানসোল, ছাতনা: চৈত্রের শেষ রবিবারের ভোট প্রচারে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর সপ্তমে তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলাকে বাঁচাতে বিজেপিকে তাড়ানোর ডাক দিলেন তিনি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে আম জনতার অধিকার হরণ হবে বলেও সতর্ক করে দেন মমতা। এদিন তীব্র দাবদাহের মধ্যেই খণ্ডঘোষ, ওন্দা, ছাতনার শালচূড়া এবং আসানসোলে ছিল সভা। ভিড়ে ঠাসা প্রতিটি সভাতেই বিজেপির বিরুদ্ধে ছিল আক্রমণের এক সুর—‘আমাদের হারানোর ক্ষমতা ওদের নেই। বাংলার শক্ত মাটিতে ষড়যন্ত্র করেও লাভ হবে না। বাংলা বিরোধীদের একটি ভোটও দেবেন না। বিজেপিকে তাড়িয়ে বাংলা বাঁচাতে হবে। তোমার দিল্লির সরকার আমরা বদলে দেব। বিজেপিকে বিদায় দিতেই হবে। বাংলা ওদের মানে না। আগামী দিনে বাংলা ডাক দেবে, বিজেপি তাড়াও বাংলা বাঁচাও। ভোটের সময় ওরা ঘুষ দেয়। তারপর আর দেখা যায় না।’ 

    বাংলায় ভোট প্রচারে নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের মুখে বারবার নারী সুরক্ষার কথা শোনা গিয়েছে। খণ্ডঘোষের সভা থেকে তিনি বলেন, ‘মেয়েদেরও চেক করছে। কাঞ্চন মল্লিকের স্ত্রীকে হেনস্তা করা হয়েছে। মেয়েদের ব্যবহৃত জিনিস বের করে দেখা হচ্ছে। মেয়েদের অসম্মান করা হচ্ছে। অশ্লীলতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।’ বিজেপির ভোট কৌশল সম্পর্কে আম জনতাকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘ওদের স্লো ভোটিং, স্লো কাউন্টিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমার কাছে খবর আছে, রবিবার মাঝরাত থেকে অপারেশন শুরু হবে। তবে আমরা জিতবই।’ কমিশনকে এক হাত নিয়ে মমতার বিস্ফোরণ, ‘আমার খণ্ডঘোষের মিটিংয়ের অনুমতি দিচ্ছিল না। অথচ প্রধানমন্ত্রীর সভায় অনুমতি দিতে কোনো সমস্যা নেই!’ প্রধানমন্ত্রী পূর্বস্থলীর সভা থেকে মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তৃণমূলনেত্রী এদিন বলেন, ‘যারা ২০২৪ সালে এসেছে, তাদের কাউকে কাউকে তুমি সার্টিফিকেট দিচ্ছো। আর যারা ১০০ বছর ধরে বাংলায় আছে, তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ? এতকিছুর পরও আমরাই জিতব। আর বিজেপিকে বলব, দেখ কেমন লাগে।’

    এরাজ্যে দিল্লির নেতারা ঘাঁটি গেড়ে রয়েছেন। মোদি-শাহের পাশাপাশি দিল্লির একঝাঁক নেতা এরাজ্যে ঘুরছেন। তৃণমূল সুপ্রিমো বাংলার মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘ওরা বাংলাকে টার্গেট করছে। বাংলাকে ভাগ করতে চাইছে। কিন্তু, ওরা বাংলাকে চেনে না। গণতান্ত্রিকভাবে বদলা নেওয়া হবে। ৫০০, হাজার টাকা দিয়ে মিছিলে লোক নিয়ে যাচ্ছে। এসবে কিছু হবে না।’ বাংলায় এনআরসি হতে দেবেন না বলেও হুংকার দেন মমতা। বলেন, ‘উনি সোনার বাংলার কথা বলেন, অথচ ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটছেন। বিজেপি কাপুরুষের মতো কাজ করছে। ওরা মিথ্যা বলে। দিল্লির বিজেপি সরকার মা-বোনেদের টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু কেউ টাকা পায়নি। বিহারের মহিলাদের থেকে টাকা ফেরত চাওয়া হচ্ছে।’ বাংলার অগ্নিকন্যার আহ্বান, ‘পয়লা বৈশাখের সংকল্প হোক আমাদের... বিজেপির বিদায়। বাংলা থেকে।’
  • Link to this news (বর্তমান)