নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জোর করে জমি দখল ও কালো টাকা রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে বিনিয়োগের মামলায় এবার এক পুলিশ কর্তাকে তলব করল ইডি। তাঁর সঙ্গেই ডাকা হয়েছে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মালিককেও। আজ সোমবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তাঁদের হাজির হতে বলা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ওই পুলিশ কর্তার সঙ্গে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর লেনদেনের নথি হাতে এসেছে বলে এজেন্সির দাবি। একইসঙ্গে দক্ষিণ কলকাতার কুখ্যাত দুষ্কৃতী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুকে আবার ডেকে পাঠিয়ে নোটিস গিয়েছে বলে খবর।
জমি দখল মামলার তদন্তে নেমে ইডি জানতে পারে, দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জমি জোর করে দখল করে বহুতল তৈরি করা হয়েছে। জমিগুলি বন্দুকের নল ঠেকিয়ে দখল করেছে সোনা পাপ্পু ও তার শাগরেদরা। জমির মালিকদের ন্যায্য টাকা ও প্রাপ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তারপরই সোনা প্পাপুর দুটি বাড়ি ও একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির অফিস এবং বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। ওই রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মালিকের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় নগদ এক কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা। এরপর আরো একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতেও তল্লাশি করে এজেন্সি। সেখান থেকে বাজেয়াপ্ত করা নথি ঘেঁটে তদন্তকারীরা জানতে পারেন এই সমস্ত রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে বেশকিছু সরকারি কর্তা ও আধিকারিকদের কালো টাকা খাটছে। তাঁদের মধ্যে পুলিশের বেশ কয়েকজন কর্তা রয়েছেন। যাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলির মালিকদের। কোম্পানিগুলির লেনদেনের হিসেব ঘাঁটতে গিয়ে দেখা যায় সরকারি কর্তাদের টাকা ঘুরপথে সেখানে এসেছে। এখান থেকেই এক পুলিশ কর্তার লেনদেনের খোঁজ পান ইডির আধিকারিকরা। তার ভিত্তিতে তাঁকে ডাকা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর। একইসঙ্গে রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মালিককেও হাজিরা দিতে বলা হয়েছে, যাতে লেনদেন সম্পর্কে যা তথ্য উঠে আসছে তা দুজনকে দিয়ে যাচাই করানো যায়।