নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকার অন্যান্য রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে যে এসআইআর চালু করেছে, তার বিরুদ্ধে রবিবার কলকাতায় এসে ফের সরব হলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পারকলা প্রভাকর। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের স্বামী প্রভাকর বলেন, এসআইআর আসলে রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যা। এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের উচিত জোট বেঁধে এর প্রতিবাদ করা। সর্বভারতীয় স্তরে সংগঠন করে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া দরকার।
এর আগেও প্রভাকর বলেছিলেন, যাঁরা ভারতবর্ষকে একটি ‘হিন্দু পাকিস্তান’ হিসেবে দেখতে চান না, তাঁরাই এসআইআরের বিরুদ্ধে সরব হবেন। এদিনও তিনি শ্রেণি বিভাজনের রাজনীতির প্রসঙ্গ আনেন। বলেন, আমরা কি ক্রমশ ‘হিন্দু ইজরায়েল’ হয়ে উঠছি? তাঁর ব্যাখ্যা, ইজরায়েলে ইহুদি ও যাঁরা ইহুদি নন, তাঁরা একযোগে রাজনৈতিকভাবে সমান অধিকার পান না। যাঁরা ইহুদি, তাঁরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, তাঁরা ইজরায়েলে সহজে নাগরিকত্ব পেতে পারেন। যাঁরা ইহুদি নন, তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যা। অথচ এখানে সিএএর মাধ্যমে বলা হচ্ছে, কেউ হিন্দু হলে এখানে নাগরিকত্ব পেতে পারেন। অথচ এদেশের বাসিন্দা যাঁরা, তাঁর কোনো শর্ত ছাড়াই এদেশের নাগরিক। এদিন পারকলা প্রভাকর বলেন, ২০০৩ সালে যাঁরা ভোট দিয়েছেন, এত বছর পর তাঁদের প্রমাণ দিতে হচ্ছে, তাঁরাও এদেশের নাগরিক। এর কি সত্যিই কোনো প্রয়োজন ছিল? তাঁর কথায়, তথাকথিত এসআইআর তো আগেও ছিল। সেখানে নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্তি ও মৃতদের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু ছিল। কিন্তু এখন যা হচ্ছে, সেখানে ভোটাধিকার থাকা ও না-থাকাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, এরাজ্যে যে ৯১ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হচ্ছে, ভোটের পর কি কেউ আদৌ তাঁদের নিয়ে আর মাথা ঘামাবেন? বিহার, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানের এসআইআরের প্রসঙ্গ এনে তিনি বলেন, সেখানে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের নিয়ে কি কারো মাথা ব্যথা আছে? এই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের সংগঠন করে প্রতিবাদ করা দরকার। তাঁর আশঙ্কা, আগামী বছর ফের এসআইআর হবে না, কে বলতে পারে? তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, এসআইআরের নামে মানুষের একাংশকে যে দুর্ভোগ ও দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলা হচ্ছে, তা জিইয়ে রাখতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার।