• ডিজিটাল পর্দা থেকে আবহসঙ্গীতে রঙিন ডানলপের ‘অভিষেক শো’
    বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: মঞ্চের পিছনে ডিজিটাল পর্দা। ‘তিনি’ আসার আগেই তাতে ভিডিয়ো, স্থির ছবি, ভাষ্যপ্রয়োগে ফুটে উঠছিল তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য। নতুন ধরনের মঞ্চসজ্জা তাক লাগিয়ে দিয়েছিল মাঠ ঠাসা জনতাকে। তিনি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চের পর্দায় ফুটে উঠল তাঁর কপ্টার। তিনি নামলেন, হাঁটলেন, হাত নাড়লেন, তরঙ্গ উঠল ভিড়-জমাট মাঠে। কেউ দেখলেন বাস্তবে, কেউ দেখলেন মঞ্চের পর্দায়। তাঁর ভাবমূর্তির সঙ্গে মানানসই যন্ত্রসঙ্গীত বাজল।

    ততক্ষণে শুরু হয়েছে করতালি, মতুয়াদের বাদ্যি। সুর বাঁধা হয়েছিল সেখানেই। সওয়া ১টা থেকে ১টা ৫২ পর্যন্ত সেই মায়াময় পরিবেশই বজায় ছিল হুগলির ডানলপের মাঠে। কখনও নেতার তালে তাল দিয়ে গর্জন, কখনও করতালি, কখনও উল্লাস। বাইরে চড়া রোদের দাপট তখন ভিড়ের রঙিন মনের কাছে যেন নেই হতে হতে মিলিয়ে গিয়েছে। বসার চেয়ার ভর্তি, সীমারেখার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ভিড়, মাথার উপরে রোদ নিয়েই চেঁচিয়ে গিয়েছে অনবরত। অভিষেক-শো। মুগ্ধ ভিড়, আন্দোলিত হয়েছে। জনকোলাহলে কান পাতা দায় হয়েছে কখনও কখনও। ভিড় গড়েছে কোলাজ। ছোটছোট মুহূর্ত। কিন্তু বড় বয়ান দিয়ে গিয়েছে এক নেতার জনমোহিনী সত্ত্বার। মাঝেমাঝেই উত্তেজনায় ব্যারিকেডের বাঁশের উপরে চড়ে যাচ্ছিলেন সোমা বাগ। ডানলপের তরুণী। অভিষেক আওয়াজ তুলছিলেন, আর তিনি লাফাচ্ছিলেন। বললেন, বুক বাজিয়ে কথা বলেন। দেখছেন তো, ভিড় কেমন সাড়া দিচ্ছে। তা দেখা যাচ্ছিল বটে। ছয়-আট ভাগে বিভক্ত ভিড় একসঙ্গে গর্জন করছিল। যখন অভিষেক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ছিলেন তখন কোণায় বসে থাকা মগরার অমিত মাজি মুষ্টিবদ্ধ হাত ছুঁড়ছিলেন। যেন তাঁরও একই চ্যালেঞ্জ। রঙে রঙে রঙিন সভা। মহিলাদের সজ্জা, তরুণ থেকে প্রবীণের উপস্থিতি, রঙবাহারি বেলুন, মতুয়াদের সুসজ্জিত যন্ত্রবাদ্য। শেষপাতে উন্মাদনার বহরটা বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন নদীয়ার বগুলা’র চা বিক্রেতা প্রভাস মৌলিক। প্রৌঢ় আদ্যন্ত বামপন্থী। চকচকে চোখে বলছিলেন, জ্যোতিবাবুর আমল থেকে সভাতে চা বেচি। এমন আলোড়ন খুব কম দেখেছি। আরও কিছু বলছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে গর্জন করতে শুরু করেছে অভিষেকের কপ্টার। তা ছাপিয়ে করছে মানুষ আর যান্ত্রিক আবহসঙ্গীত।   ডানলপের সভায় কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছাস।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)