• বিধাননগর কমিশনারেটে পুলিশি তৎপরতা, লক্ষ্য অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, চিহ্নিত হল ১৫৭ ‘ট্রাবল মঙ্গার্স’!
    বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: ভোটারদের ভয় দেখানো, বুথ জ্যাম, ছাপ্পা-রিগিং থেকে ভোটে হিংসা—যেকোনো নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন বহু অভিযোগ ওঠে। তাই বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে এবার যথেষ্ট তৎপর। হিংসা, ভীতিপ্রদর্শন, ছাপ্পা, বুথদখল রুখতে নির্বাচন কমিশনের ৬টি গাইডলাইন কার্যকর করার জন্য ইতিমধ্যেই সব থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকার ১৫৭ জন পুরানো ট্রাবল মঙ্গার্সকে (অশান্তি সৃষ্টিকারী) চিহ্নিত করা হল। এই ভোটে তাদের কেউই যাতে গোলমাল বাধাতে না-পারে তার জন্য ‘সর্তক’ করা হচ্ছে। শান্তি বজায় রাখার জন্য ১২৬ বিএনএসএস অনুযায়ী অনেকের কাছ থেকে মুচলেকাও নেওয়া হচ্ছে।

    অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন ৬টি অবজেক্টের একটি গাইড লাইন দিয়েছে পুলিশকে। প্রথমত, ভোটে হিংসা: ভোটে যাতে হিংসা না-হয়, তার উপর নজর রাখা এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত ধরনের ব্যবস্থাগ্রহণ। দ্বিতীয়ত, ভীতি প্রদর্শন: ভোটের আগে বা ভোটের সময় কেউ যাতে ভোটারদের ভয় না দেখায়, তার জন্য আগাম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ। তৃতীয়ত, প্রলোভন রোখা: আর্থিক বা অন্যকোনো ধরনের প্রলোভন যাতে ছড়াতে না-পারে, তার উপরেও নজর রাখা। চতুর্থত, ভোটে ছাপ্পা: এই ভোটে কারচুপি যাতে না-হয়, তারও ব্যবস্থা করা। পঞ্চমত, বুথ জ্যাম: এই চেনা ছকে যাতে বুথ দখল না-হয়, সেই ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। শেষ বা ষষ্ঠত হল, সোর্স জ্যামিং রোখা। এই ৬টি নির্দেশ কার্যকর করার জন্য বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর সমস্ত থানায় গিয়ে বৈঠক করেছেন। নির্দেশগুলি কার্যকর করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সকলকে। এই ব্যাপারে প্রতিটি থানা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে।

    ভোট ঘোষণার পর বিধাননগর কমিশনারেটে পুলিশ-প্রশাসন, সিএপিএফ আধিকারিকদের সঙ্গে অবজার্ভারদের বৈঠকও হয়েছে। সেখানেও নির্বাচনি প্রক্রিয়াটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সমস্তরকম পর্যালোচনা হয়। এরিয়া ডমিনেশন, ভালনারেবিলিটি ম্যাপিং, সিএপিএফ এবং স্থানীয় পুলিশ ইউনিটগুলির মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার বৈঠকও হয়েছে। কিছুদিন আগে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে সরজমিনে পুলিশ কমিশনার এবং উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক তথা নির্বাচনি আধিকারিক ঘুরে দেখেছেন। ভোটে গন্ডগোল পাকাতে পারে বা আগের নির্বাচনে গন্ডগোল পাকানোর ইতিহাস রয়েছে, এমন দুষ্কৃতী বা ট্রাবল মঙ্গার্স কতজন রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছিল। চিহ্নিতকরণের কাজটি হয় প্রতিটি থানা থেকে। ইতিমধ্যেই বাগুইআটি থানায় একাধিক ট্রাবল মঙ্গার্সকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। অন্য থানাগুলিতেও এই প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ কমিশনারেটের এক আধিকারিক জানান, তাঁদের গোটা এলাকায় এমন ১৫৭ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী।
  • Link to this news (বর্তমান)