• ঝরনার তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার মিশেলেই আস্থা রাখছে তৃণমূল
    বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বসিরহাট: সন্দেশখালি বিধানসভা এলাকায় ২০১১ সালে পরিবর্তন হাওয়া লাগেনি। সে বার সিপিএমের নিরাপদ সর্দার কাস্তে হাতুড়ি তাঁরা প্রতীকে জিতে গিয়েছিলেন। তবে এর পরের নির্বাচন থেকে, ২০১৬ সালেই এই কেন্দ্রের দখল নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। জোড়াফুলের উপর ভরসা করে এলাকার বাসিন্দারা সুকুমার মাহাতকে পরপর দুইবার বিধানসভার পাঠান।

    এরপর ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে এলাকায় কিছু বিতর্ক তৈরি হলেও বসিরহাট কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হাজি নুরুল ইসলাম ৩ লক্ষ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটে জিতে যান। যদিও সন্দেশখালি বিধানসভা এলাকায় বিজেপি প্রার্থী আট হাজারের কিছু বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন।

    এবার বিধানসভা ভোটে শাসক এবং বিরোধী দুই পক্ষই এই কেন্দ্রে নতুন মুখ দাঁড় করিয়েছে। তৃণমূল টিকিট দিয়েছে জেলা পরিষদের সদস্য ঝরনা সর্দারকে। বয়সে নবীন হলেও রাজনীতিতে তাঁর ভালোই অভিজ্ঞতা রয়েছে। লোকসভা ভোটের নিরিখে বিজেপি যে এই কেন্দ্র থেকে কিছু ভোটে এগিয়ে রয়েছে, সেই বিষয়টিকে আমলই দিতে চাইলেন না তৃণমূল প্রার্থী। বললেন, বিজেপি সন্দেশখালির মা ও বোনদের বিভ্রান্ত করে ভোটের বৈতরণী পার করতে চেয়েছিল। সারা রাজ্যের মতো এখানেও তাদের পরাজয় এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়নকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছি। ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। তাছাড়া আইলা ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি আজও মুখ্যমন্ত্রীর কল্যাণে অন্যের তুলনায় বেশি রেশন পান। পাশাপাশি এই এলাকার সার্বিক উন্নতিও হয়েছে। বেশিরভাগ জায়গায় সরকারি উদ্যোগে নতুন করে নদীর বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। আর বিজেপি যাঁকে প্রার্থী করেছে তিনি তো সন্দেশখালিতে থাকেনই না। এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর কোনো জনসংযোগ নেই। এককথায় ‘বহিরাগত’।

    বিজেপি প্রার্থী করেছে শিক্ষক সনৎ সর্দারকে। তিনি বলেন, তৃণমূল যতই বিরোধী প্রচার করার চেষ্টা করুক না কেন, সন্দেশখালির ভোটাররা ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গেই আছেন। কারণ বিগত দিনে এখানে মানুষ শাসকের হাতে নিপীড়িত হয়েছে। উন্নয়নের নামে চলেছে প্রহসন। আগামী চার তারিখে বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসবে। রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার হবে। তার দৌলতে এই এলাকায় ফেরিঘাটগুলির আধুনিকরণ হবে, একাধিক ব্রিজ ও পুল নির্মাণ করা হবে। এই এলাকার জন্য কেন্দ্র সরকারের কাছ থেকে আগামী দিন আমরা বিশেষ প্যাকেজ নিয়ে আসব।

    এদিকে, এই কেন্দ্রে এবার বাম এবং কংগ্রেস উভয়দলই প্রার্থী দিয়েছে। সিপিএমের রবীন্দ্রনাথ মাহাত এবং কংগ্রেসের যুধিষ্ঠির ভূমিজ দাবি করেন, আসলে তৃণমূল ও বিজেপি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তাই এবার তৃতীয় বিকল্প খুঁজছেন সন্দেশখালির বাসিন্দারা।
  • Link to this news (বর্তমান)