বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: রাজ্যের প্রাপ্য বকেয়া আটকে রাখছে কেন্দ্রীয় সরকার। তা নিয়ে বার বার সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার রাজ্য সরকারের তহবিল থেকে বরাদ্দকৃত টাকায় উন্নয়নের কাজ নিয়ে কেন্দ্রের অসহযোগিতার অভিযোগ উঠল উত্তর দমদমে। অভিযোগ, বিশরপাড়া এলাকায় ফতেশা খাল ও ড্রেন সংস্কারে এনওসি দিচ্ছে না রেল কর্তৃপক্ষ। তাই সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার কাজ আটকে রয়েছে। ভোট প্রচারের ইস্যু হিসাবে বিষয়টিকে তুলে ধরছে তৃণমূল। পালটা বিরোধীদের দাবি, গত পাঁচ বছরে কেন ঘুম ভাঙেনি। ভোটের আগে এনওসি নিয়ে এত তড়িঘড়ির উদ্দেশ্য কি?
উত্তর দমদম পুরসভার বহু এলাকা নীচু। পূর্ববঙ্গ থেকে প্রচুর মানুষ এইসব এলাকায় কলোনি গড়ে বসতি স্থাপন করেছিলেন। সময় যত এগিয়েছে নীচু জলা জমি ভরাট করে মানুষের বসতি তত বেড়েছে। ফলে বিশরপাড়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জল নিকাশির বড়ো সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফি বছর বর্ষার সময় শহরের ২, ৩, ৪, ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে জমা জলের সমস্যায় নাস্তানাবুদ হন এলাকাবাসী। রাস্তায় জল ওঠার পাশাপাশি অনেক বাড়িতেও জল জমে যায়। সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয়েছিলেন বিধায়ক তথা মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। কেএমডিএ বিশরপাড়া সহ সংলগ্ন এলাকায় হাইড্রেন ও ফতেশা খাল সংস্কারের জন্য সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ করে। ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে ঠিকাদারও নিয়োগ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ওই ড্রেন রেলের জায়গা দিয়ে গিয়েছে। ঠিকাদার কাজ শুরু করতেই রেলের তরফে বাধা দেওয়া হয়। উত্তর দমদম পুরসভার তরফে রেলকে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি চন্দ্রিমাদেবী রেলের আধিকারিকদের চিঠিও দেন। কিন্তু আজও রেলের তরফে এনওসি মেলেনি। ফলে ঠিকাদার সংস্থা কাজ শুরু করতে পারছে না। এই গরমে ওই কাজ না হলে আগামী বর্ষায় জল যন্ত্রণা থেকে মুক্তির উপায় নেই। রেলের মতামতের জন্য পূর্ব রেলের মুখ জনসংযোগ আধিকারিককে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
ভোটের প্রচারে ওয়ার্ডের বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন চন্দ্রিমাদেবী। সেখানে বিষয়টি তুলে ধরছেন। চন্দ্রিমাদেবী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারের কয়েক লক্ষ টাকা নায্য পাওনা দিচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক প্রকল্প চালিয়েও উত্তর দমদমে ড্রেন ও ফতেশা খালের সংস্কারে রাজ্য সরকার সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। রেল এনওসি না দেওয়ায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। আমি নিজে রেলের আধিকারিকদের ফোন করেছি। লাভ হয়নি। মানুষ জবাব দেবে। বিজেপি প্রার্থী সৌরভ শিকদার বলেন, তৃণমূলের সিন্ডিকেট রেলের জমি দখল করে বিক্রি করেছে। খাল ও হাইড্রেন বেদখল হয়েছে। ফলে জল নিকাশি অবরুদ্ধ হয়েছে। সামান্য বর্ষা হলে মানুষ ডুবছে। দুই দফায় বিধায়ক থাকার পরও কেন এতদিন খাল সংস্কার ও বেদখল হওয়া খাল আগের অবস্থায় ফেরানো হয়নি। তৃণমূলের নোংরা রাজনীতি মানুষ ধরে ফেলেছে। সিপিএম নেতা শিবশঙ্কর ঘোষ বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার সমঝোতা করে রাজ্যের সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করছে। ১০০ দিনের কাজ থেকে শুরু করে খাল সংস্কার সর্বক্ষেত্রেই এদের নীতি এক। এতদিন খাল সংস্কার কেন করা হয়নি? কেন ভোটের মুখে একে অন্যের ঘাড়ে দোষ ঠেলছে? আসলে এরা এলাকার উন্নয়ন চায় না।