• টোটো থামিয়ে বিমানকে মালা পরালেন মহিলারা, তীব্র গরমে কেউ দিলেন ফল
    বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: সূর্য তখন মধ্যেগগনে। গ্রামের মানুষ জমা হয়েছেন পশ্চিম রামনগর এস এস  কে স্কুল প্রাঙ্গণে। এলাকাটি বারুইপুরের শিখরবালি ১ নম্বর পঞ্চায়েতের অধীনে। অপেক্ষা বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রামের রাস্তার পাশে পোস্টারে ছয়লাপ। তাতে লেখা, এবারে আবার বিমানদাকেই চাই। কয়েক মিনিটের পরে এলেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। টোটো বেলুন দিয়ে সাজিয়ে গ্রামে গ্রামে যাওয়ার জন্য রেডি। সাদা ধপধপে পাঞ্জাবি, রোদ ঢাকতে মাথায় টুপি পরে তৈরি প্রার্থীও। উঠে পড়লেন টোটোয়। পিছনে সঙ্গীরা। গাড়ির সামনে, পিছনে প্রচুর মহিলা ও পুরুষদের ভিড়। চলছে স্লোগান। শুরু হল প্রচার।

    পেয়ারাবাগানের পাশ দিয়ে চলল টোটো। মিছিলে তৃণমূলের পতাকা হাতে হাজির ছোটো ছোটো ছেলে মেয়েরা। তাঁরাও স্লোগান দিচ্ছে। টোটো ঢুকল রূপনগর গ্রামে। মাইকের আওয়াজ শুনে বেরিয়ে এলেন গৃহবধূরা। প্রার্থী বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরবেন বলে টোটোর কাছে তাঁরা। বিমানবাবু তাঁদের আবদার মিটিয়ে কুশল সংবাদ নেওয়ার পাশাপাশি ভোট দেওয়ার আরজি জানালেন। কিছুটা এগলেই কয়েকজন গৃহবধূ মালা হাতে ছুটে এসে টোটোর সামনে দাঁড়ালেন। প্রার্থীকে মালা পড়িয়ে দিলেন তাঁরা। ছুড়লেন ফুল। প্রার্থীকে বললেন, দাদা আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন। বিমানবাবু তাঁদের দিকে হাত নেড়ে এগিয়ে চললেন আরও। এক যুবতি এসে বললেন, স্যার পানীয় জলের সমস্যা আছে। একটু দেখবেন ভোটের পরে। তাঁকে আশ্বস্ত করলেন তৃণমূল প্রার্থী। কিছুটা এগিয়ে যেতেই এক মোড়ে জমায়েত। টোটো থেকে নেমে  বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের কাছে যেতেই তাঁরা এসে মালা পরিয়ে বললেন, স্যার আপনি জিতবেন। আমাদের পাশে থাকবেন। মুখে হাসি প্রার্থীর। বললেন, তোমরা দেখো। আমি আছি। 

    টোটোর পিছনে তখন তৃণমূল কর্মীদের পাশাপাশি এলাকার মানুষ হেঁটে র‌্যালির সঙ্গে পা মেলাচ্ছেন। অনেকে বললেন, আগের বারুইপুর আর এই বারুইপুর অনেক চেঞ্জ হয়েছে। রাস্তাঘাটের পরিবর্তন হয়েছে। উড়ালপুল হয়েছে। সিপিএম এই নিয়ে স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিছু করেনি। এবার দক্ষিণ শাসনে ঢুকল প্রার্থীর টোটো। মাইকের আওয়াজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেন লোকজন। কলেজ, স্কুল পড়ুয়াড়াও রাস্তায় হাজির। মাইকে চলছে, ‘যখন ডাকি তখন পাই, বিমানদাকে চাই।’ টোটো থেকে প্রার্থী নেমে গ্রামের মানুষদের কাছে গেলেন। কেউ তাঁকে পেয়ারা এগিয়ে দিলেন কেউ বা ডাব দিলেন খেতে। তাঁদের নিরাশ না করে ডাবে চুমুক দিলেন প্রবীণ নেতা। কেউ কেউ এসে মোবাইলে প্রার্থীর সঙ্গে ছবি তুললেন। প্রার্থীকে ঘিরে আট থেকে আশির উন্মাদনা গ্রাম জুড়ে। বিমানবাবু বলেন, প্রতিদিন প্রচারে মানুষের এত ভালোবাসা পাচ্ছি। যে যে সমস্যা আছে ও অর্ধসমাপ্ত কাজ আছে তা পূরণ করব নির্বাচিত হলে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফের ক্ষমতায় আসা সময়ের অপেক্ষা। দক্ষিণ শাসন শিবতলায় শিব মন্দিরে মালা দিয়ে পুজো দিলেন প্রার্থী। উপস্থিত জমায়েত থেকে আওয়াজ উঠল স্যার আপনি থাকছেন। বিমানবাবু তাঁদের ভিকট্রি চিহ্ন দেখিয়ে নমস্কার করে প্রচার শেষ করলেন গ্রামে। ক্লান্ত কর্মীদের মুখে একটাই বার্তা, উনি জিতবেন। ব্যবধান কত হয় 

    সেটাই দেখার।
  • Link to this news (বর্তমান)