অভিজিৎ চৌধুরী, ব্যান্ডেল: ‘আমার লোকসভাকে যেমন আমি আগলে রাখি, তেমনই চুঁচুড়া ও সপ্তগ্রামকে সেভাবেই রাখব।’ রবিবার ব্যান্ডেলের ডানলপ ময়দানে এসে চুঁচুড়া ও সপ্তগ্রামের জন্য বিরাট প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের ওই প্রতিশ্রুতির পরে তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। অভিষেক এদিন শুধু প্রতিশ্রুতিই দেননি, তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপিকে। বিশেষ করে পদ্মপার্টির প্রাক্তন সাংসদকে তিনি তুলোধোনা করেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এদিন তিনি সভা শুরুই করেছিলেন বিজেপির ঘর ভেঙে! হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুরেশ সাউ সহ একঝাঁক পদাধিকারী এদিন ডানলপের মঞ্চ থেকে অভিষেকের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেন।
এদিন বেলা সওয়া ১টা নাগাদ মঞ্চে আসেন অভিষেক। তার আগেই চুঁচুড়া ও সপ্তগ্রামের দুই প্রার্থী যথাক্রমে দেবাংশু ভট্টাচার্য ও বিদেশ বসুর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন চুঁচুড়ার বিদায়ী বিধায়ক সহ একাধিক নেতা। ছিলেন দুই সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের ‘উন্নয়নের পাঁচালি’র কো-অর্ডিনেটার সুবীর মুখোপাধ্যায়। সেই মঞ্চেই সুরেশের হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেন অভিষেক। পরে সুরেশ বলেন, ‘দলের হয়ে ঘাম ঝরানো নেতাকর্মীদের আবেগকেই গুরুত্ব দেয় না বিজেপি। তাহলে ভোটারদের আবেগের মূল্য কী করে দেবে?’
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুরু থেকেই ঝোড়ো ব্যাটিং শুরু করেন তৃণমূলের সেনাপতি। বলেন, ‘বিজেপির সবই জুমলা। চুঁচুড়া ও সপ্তগ্রামের মানুষ তা ভালো করে বুঝেছেন। এখানে পাঁচ বছর সাংসদ ছিলেন বিজেপি নেত্রী। বলেছিলেন, রেলওভার ব্রিজ করবেন। করেননি। পাঁচ বছরে কী কাজ করেছেন? জবাব বিজেপিকেই দিতে হবে।’ অভিষেক তেড়ে আক্রমণ করতেই অভ্যস্ত। তাঁর ওই ভঙ্গিমায় অবাক হয়নি ভিড়। কিন্তু বক্তব্যের একেবারে শেষের পর্বে এসে চমকে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমি সাংসদ হিসাবে আমার লোকসভা কেন্দ্রকে কেমন আগলে রাখি। চুঁচুড়া ও সপ্তগ্রামকেও তেমনই আগলে রাখব। আজ কথা দিয়ে যাচ্ছি। শুধু জিতিয়ে দিন।’ মাঠ ভরতি জনতা একথা শোনার পর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। তৃণমূলের জেলাস্তরের একাধিক নেতা বলছেন, ‘অনেক বড়ো কথা বলে গিয়েছেন অভিষেক।’ তাঁর এই প্রতিশ্রুতি যে শুধু ভোটের প্রচার নয়, তাও বুঝিয়ে দিয়েছেন অভিষেক। বলেছেন, ‘৪ মে’র পর আবার আসব, কথা দিচ্ছি। তখন নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি হবে।’ দলের সেনাপতির ওই বক্তব্যে কর্মীদের চওড়া ছাতি আরও চওড়া হয়েছে। সেনাপতির সভা বস্তুত তাঁদের প্রত্যাশার থেকেও অনেক বেশি দিয়ে গেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।