• থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বধূ ও শিশুর অর্ধদগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার ট্রাঙ্কে, ধৃত স্বামী
    বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মা ও তিনমাসের কন্যাসন্তানের অর্ধদগ্ধ, নগ্ন দেহ উদ্ধার হল টিনের বাক্সে। ঘটনা ঘিরে রবিবার সকালে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে সন্দেশখালি থানার মণিপুর গ্রামে। মৃত গৃহবধূর নাম সুনীতা মাইতি (৩৫), শিশুকন্যা শুদ্ধি মাইতি। আত্মহত্যা নাকি খুন, সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মৃতার স্বামী বিপ্লব মাইতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মৃতার বাপের বাড়ির সদস্যদের একাংশের আশঙ্কা, জলবেষ্টিত সন্দেশখালিতে মা ও মেয়ের দেহ বড়ো টিনের বাক্সে ভরে নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে প্রমাণ লোপাট করতে চেয়েছিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তাঁদের দাবি, পুলিশ উপযুক্ত তদন্ত করুক।

    দীর্ঘদিন ধরে সুনীতা মাইতির শ্বশুরবাড়িতে অশান্তি চলছিল। পাশাপাশি মা ও শিশুকন্যা দু’জনেই থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। ফলে, মানসিক চাপও বাড়ছিল। শ্বশুরবাড়ির দাবি, শনিবার গভীর রাতে সুনীতার স্বামী বিপ্লব মাইতি খেলা দেখে বাড়ি ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোররাত প্রায় সাড়ে চারটে নাগাদ ঘুম ভাঙলে তিনি দেখেন, স্ত্রী ও সন্তান পাশে নেই। খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে বাড়ির উপরের ঘরে একটি বড়ো ট্রাঙ্কের ভিতরে মেয়ে ও স্ত্রীর দেহ দেখতে পান। দেহ দুটি আংশিক পোড়া এবং অর্ধনগ্ন অবস্থায় ছিল। যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। খবর পেয়ে সন্দেশখালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। তবে কীভাবে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। 

    আত্মহত্যার তত্ত্ব সামনে এলেও খুন বা অন্য কোনো ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না তদন্তকারীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, সুনীতা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। পারিবারিক অশান্তি ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। তবে, দেহ উদ্ধারের পরিস্থিতি এবং স্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে—কীভাবে আগুন লাগার পর দেহ ট্রাঙ্কের ভিতরে এল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এই ঘটনার পর পুলিশ বিপ্লব মাইতিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে সন্দেশখালি থানার পুলিশ। মৃতার দাদা দীপঙ্কর পাইন বলেন, বোনের শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে ঝামেলা ছিল। কিন্তু বোন আত্মহত্যা করতে পারে না। ট্রাঙ্কের ভিতরে কেউ ঢুকে গায়ে আগুন দিয়ে মরবে এটা অস্বাভাবিক। আমাদের ধারণা, খুন করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয়েছে। আর শেষে দেহ জলে ভাসিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা বুঝতে পারছি না। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বসিরহাট পুলিশ জেলার সুপার অলোকানন্দা ভাওয়াল বলেন, স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। শীঘ্রই প্রকৃত কারণ সামনে আসবে।
  • Link to this news (বর্তমান)