• ১৯% রাজস্ব আদায় বাড়িয়ে রেকর্ড পুরসভার, এসআইআরে কর্মী নিয়ে টানাটানি সত্ত্বেও ২০৭০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ
    বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাফল্যের ইঙ্গিত মিলছিল কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই। অর্থবর্ষ শেষে স্পষ্ট হল, রাজস্ব আদায়ে এবার রেকর্ড সাফল্য অর্জন করেছে কলকাতা পুরসভা।

    সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পুরসভার সার্বিক রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ২০০০ কোটির গণ্ডি ছাড়িয়েছে। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে বিভিন্ন খাত থেকে রাজস্ব বাবদ পুরসভার আয় হয়েছিল ১৮৫৩ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা। সদ্যসমাপ্ত অর্থবর্ষে সেই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০৭০ কোটি টাকা। ফলে উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি কর্মীদের পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ডের খরচ সামলাতে পুরসভার অনেকটা সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু সম্পত্তিকর খাতেই এবার ৪০ কোটির বেশি টাকা (৪০ কোটি ৬০ লক্ষ) বাড়তি রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে খবর। সার্বিকভাবে পুরসভার বাড়তি আয় হয়েছে ২১৭ কোটি টাকার বেশি। 

    পুরসভার সিংহভাগ রাজস্ব আসে সম্পত্তি কর থেকেই। এর বাইরে বিল্ডিং, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ট্রেড লাইসেন্স, বিজ্ঞাপন, পার্কিং, বিনোদন সহ মোট ১৩টি ক্ষেত্র থেকে পুরসভার রাজস্ব আদায় হয়। সম্পত্তি কর মূল্যায়ন এবং রাজস্ব আদায় বিভাগ মূলত আটটি ভাগে বিভক্ত। গত অর্থবর্ষে সব থেকে বেশি সম্পত্তি কর সংগ্রহ হয়েছে সাউথ ডিভিশন থেকে। আদায় হয়েছে ৫৫১ কোটি ৭৬ লক্ষের বেশি টাকা। এরপরেই রয়েছে নর্থ ডিভিশন (৩০২ কোটি ৯৮ লক্ষের বেশি)। তবে গতবারের তুলনায় নর্থ ডিভিশনের আদায় এবার কিছুটা কম হয়েছে। সম্পত্তি কর খাতে রাজস্ব বৃদ্ধির নিরিখে সবথেকে উপরে রয়েছে এসএসইউ (যাদবপুর) ডিভিশন। গত এক বছরে এই অঞ্চল থেকে আয় বেড়েছে ১০.৭৫ শতাংশ হারে। তারপর রয়েছে বরো ১২ (৬.৪২ শতাংশ বৃদ্ধি), সাউথ ডিভিশন (৪.৩২ শতাংশ বৃদ্ধি) এবং বরো ১১ (৪.১৮ শতাংশ বৃদ্ধি)। টলি ট্যাক্স ডিভিশনের আয়ও চোখে পড়ার মতো। কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, যেখানে কয়েক বছর আগেও এই অঞ্চল থেকে ১০০ কোটি টাকা সম্পত্তি কর সংগ্রহ কঠিন ছিল, সেই জায়গায় ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে ১৫৫ কোটি টাকার বেশি এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রায় ১৫৮ কোটি টাকা রাজস্ব এসেছে। 

    এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই খুশি কর্তৃপক্ষ। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ থেকে শুরু করে এসআইআর, নানা কাজে বারবার কর্মীদের তুলে নেওয়া হয়েছে। বহু কর্মী বিএলওর ডিউটি করছেন। তারপরও আশাতীত রাজস্ব আদায় অবশ্যই বড়ো সাফল্য। 

    যদিও কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, শহরের যাবতীয় সম্পত্তিকে করের আওতায় আনা গেলে আয় আরও বাড়বে। বিশেষ করে সংযুক্ত অঞ্চলে (যাদবপুর, টালিগঞ্জ, কসবা, গরফা, বেহালা, ঠাকুরপুকুর, জোকা) অনেক সম্পত্তি এখনও করের আওতাভুক্ত নয়। মিউটেশন, অ্যাসেসমেন্টই হয়নি এখনও। এসব কারণে কলকাতা পুরসভার আয় ধাক্কা খাচ্ছে। এরকম সমস্ত সম্পত্তি ট্যাক্সের আওতাভুক্ত করতে পারলে আরও অন্তত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী পুরকর্তারা। 
  • Link to this news (বর্তমান)