• ৫০০০ টাকা নিয়ে ভোটে সিপিএমের আব্দুল, ঘুমোন বন্ধ কারখানায়, পেট চালাতে ভরসা পার্টির ভাতা
    বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রার্থীর নিজের বাড়ি নেই। রাতে শ্রমিকদের সঙ্গে একটি বন্ধ কারখানায় ঘুমোন। বাকি সময় কাটে পার্টি অফিসে। সম্প্রতি করণদিঘি কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী হাজি সাহাবুদ্দিন কয়েকশো গাড়ির বিশাল মিছিল নিয়ে মনোনয়ন দাখিল করতে গিয়েছিলেন। দেখে চোখ কপালে উঠেছিল রাজ্যবাসীর। করণদিঘির ঠিক বিপরীত ছবি কলকাতার এন্টালি বিধানসভা কেন্দ্রের। এই আসনের সিপিএম প্রার্থী আব্দুল রউফ তপসিয়ার একটি বন্ধ কারখানায় রাতে ঘুমোন। তিনি সিপিএমের কলকাতা জেলার সর্বক্ষণের কর্মী। সম্প্রতি মনোনয়ন জমা করেছেন। নির্বাচন কমিশনের কাছে যে হলফনামা দিয়েছেন তা দেখে সবাই বিস্মিত।

    শুধু বাড়ি কেন, খুব বেশি টাকাও নেই রউফের। হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, নগদ মাত্র ৫০০০ টাকা নিয়ে নেমেছেন ভোটযুদ্ধে। এমনিতে তাঁর জীবন চলে পার্টির দেওয়া ভাতার টাকায়। ব্যাংকে একটা অ্যাকাউন্টও নেই। আয়কর দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সে আওতাতেই তিনি পড়েন না। তিনি এটাও জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে তপসিয়া থানায় একটি ক্রিমিনাল কেস আছে। অভিযোগ, অস্ত্র নিয়ে জমায়েত করে গণ্ডগোল পাকানো এবং মারধরের। সেই মামলার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। রউফের নিজস্ব বাড়ি নেই। কোনো কৃষি বা অকৃষি জমি নেই। নিজস্ব মালিকানাধীন কোনো বাণিজ্যিক ভবন নেই। জীবন বিমা বা স্বাস্থ্য বিমা করাতে পারেননি। গাড়ি কেনার প্রশ্নই ওঠেনি। কর্মীরা বলেন, ‘আব্দুলদা হলেন প্রকৃত সর্বহারা।’ 

    সিপিএমে বিমান বসুর মতো নেতাও আছেন। যিনি কবে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন তা হয়ত মনেই নেই। কলকাতায় নিজের কোনো বাড়ি নেই বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমানের। থাকেন আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএমের পার্টি অফিসে ছাদের একটি ঘরে। বিমান বসু অনেকেরই আদর্শ। তাঁর মতোই সর্বহারা এবং মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষ হলেন এন্টালি বিধানসভার প্রার্থী আব্দুল রউফ। তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার পুত্র সন্দীপন সাহা। আর বিজেপির প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল। তবে সিপিএমের প্রার্থীর হলফনামা দেখে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরও চমক লেগেছে। বালিগঞ্জের আফরিন বেগম বা অন্যান্য বাম প্রার্থীদের বাড়ি-গাড়ি না থাকলেও অল্পবিস্তর ব্যাংক ব্যালান্স বা জীবন বিমা ইত্যাদি আছে। তবে রউফের কিছুই নেই। ঝোলা পুরো শূন্য। 

    সম্প্রতি করণদিঘির বাম প্রার্থী হাজি সাহাবুদ্দিনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। তাঁর মনোনয়নে যাওয়া গাড়ির মিছিল জাতীয় সড়ক কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলেছিল। বামেদের জীবনযাত্রার নিরিখে এ ছবি ব্যতিক্রমী। এর ঠিক বিপরীত চরিত্র রউফের। তাঁর সম্পত্তিশূন্যতা দেখে চমকে যাচ্ছে সবাই। এন্টালিতে বামেদের একাংশ বলছেন, নিজেকে বারবার ফকির বলে গরিব মানুষের কাছাকাছি আসার চেষ্টা চালান বিজেপির নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু মানুষ সত্যি মিথ্যে সব বোঝে। প্রকৃত ফকির দেখতে হলে রাতে যেতে হয় ওই বন্ধ কারখানাটায়। গরমে ঘামতে ঘামতে ওখানেই ঘুমোতে হয় আব্দুলদাকে।
  • Link to this news (বর্তমান)