নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বৃষ্টির বিকেল অথবা বাড়িতে অতিথির আগমন— লুডোর বোর্ড পেতে খেলতে বসা পুরানো পারিবারিক রেওয়াজ। দিন বদলেছে। অনলাইন গেম জাঁকিয়ে বসেছে বাঙালি জীবনে। তবে লুডুকেও ভোলেনি আম বাঙালি। সেই খেলাকে হাতিয়ার করে ভোট প্রচারে নেমে পড়েছে তৃণমূল।
অশোকনগর বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় লুডোর বোর্ড রাজনৈতিক ভালোমন্দের বার্তা নিয়ে পৌঁছে গিয়েছে গেরস্থের ঘরে। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন বিশেষভাবে তৈরি বোর্ড। ছকের ভিতর লুকিয়ে আছে রাজনীতির বার্তা। বোর্ডের সিঁড়িগুলি শুধু এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা নয়, বরং প্রতীক। রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পকে সেখানে ‘উন্নতির ধাপ’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলার বাড়ি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথী, বার্ধক্য ভাতা—প্রতিটি ঘরে রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পের কথা। খেলতে খেলতে সেই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা—উন্নয়নের সিঁড়ি ধরলে উপরে ওঠা। অন্যদিকে, সাপের ঘরগুলোয় স্পষ্ট বিরোধী শিবিরের উপস্থিতি। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, দিলীপ ঘোষ, শমীক ভট্টাচার্য এক একটি মুখ যেন এক একটি সতর্কবার্তা। ভুল খোপে পড়লে সোজা নীচে নামা। প্রতীকী উপস্থাপনায় বোঝানো, এই পথে পা বাড়ালে অগ্রগতি থমকে যেতে পারে। তৃণমূলের দাবি, এটি শুধু অভিনব প্রচার নয়, বরং যোগাযোগের নতুন কৌশল। বাড়ির মহিলারা, প্রবীণ মানুষ, এমনকি কিশোর-কিশোরীরাও সহজে অংশ নিচ্ছেন। বিকেলের আড্ডা, পাড়ার মোড়, উঠোন সব জায়গায় এখন জমে উঠছে সাপ-লুডোর আসর। মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে অভিনব প্রচারের কৌশল। দলের একাংশের মতে, বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে এই বোর্ডের জনপ্রিয়তা বেশি। কারণ, আলাদা করে সময় বার করার প্রয়োজন নেই—ঘরের কাজের ফাঁকে খেলা যায়। ফলে অজান্তে রাজনৈতিক প্রচার ঢুকে পড়ছে দৈনন্দিন জীবনে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই ধরনের ‘সফ্ট’ প্রচার কৌশল নতুন নয়, কিন্তু তার উপস্থাপন ভঙ্গি ক্রমশ বদলাচ্ছে। সবমিলিয়ে, অশোকনগরের সাপ-লুডোর বোর্ড এখন শুধু খেলার উপকরণ নয়, রাজনৈতিক বয়ানও। খেলার ছলে নিজের মত তৈরির সুযোগ পাচ্ছেন ভোটাররা।