• ‘আমরা দেশদ্রোহী?’ দিলীপ ঘোষের ভোট প্রচারে পোস্টার হাতে বিক্ষোভ
    বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • সংবাদদাতা, খড়্গপুর: দিলীপ ঘোষের ‘দেশদ্রোহী’ মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ জারি রেখেছেন খড়্গপুর শহরের ‘ডিলিটেড’ ভোটাররা। রবিবার জাতীয় পতাকা নিয়ে, পোস্টার হাতে বিক্ষোভ দেখালেন খড়্গপুর শহরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ‘ডিলিটেড’ ভোটাররা। পোস্টারে বড়ো বড়ো করে লেখা, ‘আমরা দেশদ্রোহী?’ এদিন সকালে ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কৌশল্যা এলাকায় দিলীপ ঘোষের প্রচার চলার সময় তাঁরা বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীদের দাবি, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নাম থাকলেও তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর দায় সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের। অথচ, তাঁদের দেশবিরোধী, দেশদ্রোহী বলে দাগিয়ে দিচ্ছেন দিলীপবাবু। এর প্রতিবাদে এদিন তাঁরা জাতীয় পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখান। যদিও নিজের মন্তব্যেই অনড় দিলীপ ঘোষ। এদিন তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এতে তাঁর কিছু এসে যায় না।

    রবিবার সকালে কৌশল্যা এলাকায় বিজেপি প্রার্থীর প্রচার চলাকালীন বিক্ষোভ দেখান ওই ওয়ার্ডের ‘ডিলিটেড’ ভোটাররা। বিক্ষোভকারীদের তরফে শম্পা খিলাড়ি, রিঙ্কু দোলই, কাজল ঘোড়াই বলেন, ‘আমারা এই ওয়ার্ডেরই বাসিন্দা। বছরের পর বছর এখানেই বাস করছি। পরিবারের বাকিদের নাম ভোটার তালিকায় আছে। অথচ, আমাদের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এখন দিলীপবাবু আমাদেরই ‘দেশদ্রোহী’ বলছেন? আমরা কীভাবে দেশদ্রোহী হলাম, সেই জবাব চাইতে এসেছি তাঁর কাছ থেকে।’ তাঁরা এও বলেন, ‘বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সমস্ত কাগজপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও নাম ডিলিট করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভুলে আমরা এবার আর ভোট দিতে পারব না। তাই আমাদের ভোটাধিকার যারা কাড়ল, তারাই দেশদ্রোহী!’ 

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া বা ডিলিটেড ভোটারদের ‘দেশদ্রোহী’ বলে দাগিয়ে দিয়েছিলেন খড়্গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী। এদিন  বিজেপি প্রার্থীকে আক্রমণ করে শম্পা, রিঙ্কুরা বলেন, ‘দিলীপ ঘোষ তো এখানে উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন। আর আমরা এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। আর আমাদেরই উনি দেশদ্রোহী বলছেন! যতক্ষণ না তিনি ক্ষমা চাইছেন, প্রতিবাদ চলবে।’ 

    যদিও, পুলিশ এসে কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। এরপর তাঁরা কৌশল্যাতে বিজেপির জেলা কার্যালয়ের সামনে বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভ দেখান। 

    স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলার আশা দোলই বলেন, ‘ওঁদের বিক্ষোভ দেখানোটা স্বাভাবিক। একদিকে সমস্ত কাগজ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁর উপর আবার দেশদ্রোহী বলা হচ্ছে!’ আশাদেবী এও বলেন, ‘আমার নিজের জায়ের নাম(রিঙ্কু দোলই)-ও তো ডিলিটেড করা হয়েছে। অথচ, আমাদের পরিবারের বাকি ১৪ জন ভোটারের নাম তালিকায় আছে।’ 

    যদিও এই সমস্ত বিক্ষোভকে পাত্তা দিতে রাজি নন বিজেপি প্রার্থী। দিলীপবাবু বলেন, ‘কারও কিছু বলার থাকলে সামনে এসে বলুক! এসব প্রতিবাদকে পাত্তা দেয় না দিলীপ ঘোষ।’
  • Link to this news (বর্তমান)