• দমকল কেন্দ্র নিকাশি সমস্যার সমাধান, উন্নয়নের ‘শপথ’ নিচ্ছেন মহেশতলার তৃণমূল প্রার্থী
    বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: ভোট প্রচারে বিরোধী রাজনৈতিক দল শাসক শিবিরের কাজকর্মের ফাঁকফোকর তুলে ধরবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মহেশতলা বিধানসভা কেন্দ্রে উলটো ছবি দেখা গেল। বিরোধী দলকে কার্যত কোনো সুযোগ না দিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস নিজেরাই ভোটারদের সামনে নিজেদের কাজের ফাঁকগুলি তুলে ধরছে। সেই সঙ্গে নাগরিকদের আশ্বস্ত করে তারা শপথ নিচ্ছে, ভোটারদের আশীর্বাদ পেলে আগামী দিনে সেসব কাজ সম্পূর্ণ হবে। তৃণমূল প্রার্থী শুভাশিস দাসের কথায়, ‘সোজসাপ্টা বলার সাহস আছে আমার। ভোট চাইতে বেরিয়ে কে কী বলতে পারে, তাও বুঝে নিয়েছি। তাই আম জনতা এবং বিরোধী দল কিছু বলার আগে  বলছি। এখানে বড়ো সমস্যা হল জল নিকাশি। এটা তো লুকোবার কিছু নেই। আগামী দিনে এর মোকাবিলায় কী কী করতে চাই, জানিয়ে রাখছি। এটা যে শুধু মুখের কথা নয়, রীতিমতো শপথ, তাও বলছি।’ প্রচারে তিনি আরও বলছেন,  ‘সেই বাম আমল থেকে এই সমস্যা চলছে। তাও তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর কিছুটা চেষ্টা হয়েছে। এবার মহেশতলার মানুষ যদি আমার উপর ভরসা রাখেন, তাহলে আমার প্রথম কাজ হবে মহেশতলাজুড়ে অত্যাধুনিক ভূগর্ভস্থ নিকাশি পরিকাঠামো গড়ে তোলা।’

    তবে শুধু এটা নয়, আরও চারটি বিষয়ে শপথ করছেন তিনি। মহেশতলা বিধানসভা কেন্দ্রে কোথাও ভূমিসংস্কার অফিস না থাকায় এই এলাকার বাসিন্দাদের আলিপুরে ছুটতে হয়। এই সমস্যা মেটাতে মহেশতলায় একটি ভূমি ও ভূমিসংস্কার অফিস করার উদ্যোগ নেবেন তিনি। নুঙ্গি সহ সংলগ্ন এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ আতসবাজি তৈরি ও কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের জন্য একটি স্থায়ী বাজি হাব তৈরির পরিকল্পনা হয়েছে। মহেশতলায় কোনো দমকল কেন্দ্র নেই। যদিও এর জন্য জমি চিহ্নিত করে তা দমকল বিভাগের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ভোট মিটে গেলেই এটি তৈরি করার শপথ নিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী। শুভাশিসবাবু বলেন, ‘পুর এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। এবার প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নেব।’ বিজেপি প্রার্থী তমোনাথ ভৌমিক বলেন, ‘নিকাশি সমস্যা তো সবে হয়েছে, এমন নয়। তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছে ২০১১ সাল থেকে। তারও আগে মহেশতলা পুরসভার ক্ষমতা দখল করেছে তৃণমূল। তা হলে এই দীর্ঘ সময় ধরে তৃণমূল কিছু করল না কেন? এখন ভোট বলে গালগল্প দিচ্ছে ওরা। ভোটাররা একবার সুযোগ দিলে বিজেপি জলনিকাশি থেকে স্বাস্থ্য এবং শিল্প, সব ব্যাপারে মহেশতলাকে এগিয়ে দেবে।’ সিপিএম প্রার্থী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এখন মানুষ তৃণমূলকে আর বিশ্বাস করে না। তাই গৌরচন্দ্রিকা করে ভোটারদের বোকা বানানোর চেষ্টা করছে।’ আর কংগ্রেস প্রার্থী শেখ আব্দুল হান্নান বলেন, ‘শুভাশিসবাবুর বাবা বর্তমান বিধায়ক এবং মহেশতলা পুরসভার চেয়ারম্যান। তাহলে এতদিন এসব কাজ হল না কেন? তার জবাব দিক আগে।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)