• বেতন বৃদ্ধির দাবিতে রণক্ষেত্র নয়ডা, ভাঙচুর একাধিক অফিস, পুলিশের গাড়িতে আগুন
    এই সময় | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • বেতন বৃদ্ধির দাবিতে উত্তাল নয়ডার ২ নম্বর ফেজ় এলাকা। সোমবার সকালে একটি বেসরকারি সংস্থার সামনে কয়েক হাজার শ্রমিক বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তেজিত শ্রমিকদের একাংশ অফিস ও গাড়ি ভাঙচুর করেন। তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথরও ছুড়তে থাকেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ দফায় দফায় কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ৫০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এলাকায় শান্তি ফেরাতে পুলিশের বড় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

    সূত্রের খবর, একটি বেসরকারি কোম্পানির কয়েক হাজার কর্মী গত তিন দিন ধরে এলাকায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। সোমবার বিক্ষোভ চত্বর রণক্ষেত্রের চেহারা নেয। মূলত বেতন বৃদ্ধি ও ওভারটাইম সংক্রান্ত একাধিক দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বেসরকারি ওই সংস্থার কর্মীরা।

    বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে নয়ডার বিভিন্ন প্রান্তে। ১ নম্বর ফেজ়-এর ৮৪ নম্বর সেক্টরে আন্দোলন চরম আকার নেয়। সেখানে অন্তত দু'টি গাড়িতে আগুন লাগানো হয় বলে অভিযোগ। অন্যদিকে ৬২ নম্বর সেক্টরেও কয়েক হাজার শ্রমিক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পুলিশ ও প্রশাসনকে। অথচ কয়েকদিন আগেই জেলা প্রশাসন এবং উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আধিকারিকরা শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেখানে তাঁদের দাবি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও শ্রমিকরা আজ সোমবার বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।

    শ্রমিক আন্দোলনের জেরে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে নয়ডা এবং সংলগ্ন এলাকা। বিশেষ করে ময়ূর বিহারের ক্রাউন প্লাজ ফ্লাইওভারের কাছে তীব্র যানজট তৈরি হয়। বহু নিত্যযাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ বেশ কিছু জায়গায় রুট ডাইভারশন বা রাস্তা ঘুরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেক্টর ৬২ গোলচত্বর থেকে এনআইবি পুলিশ পোস্ট পর্যন্ত রাস্তায় আপাতত জন সাধারণের প্রবেশে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এ ছাড়াও পুলিশের পক্ষ থেকে একটি ট্র্যাফিক হেল্পলাইন নম্বর (৯৯৭১০০৯০০১) চালু করা হয়েছে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নয়ডা পুলিশের আধিকারিকরা ওই এলাকায় টহল দিচ্ছেন। সঙ্গে গুজব ছড়াতে নিষেধ করা হয়েছে সাধারণ মানুষকে। নয়ডার বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে, যাতে নতুন করে কোনও অশান্তি না ছড়ায়। তবে যানজটের সমস্যা মেটাতে এখনও বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

  • Link to this news (এই সময়)