নরেন্দ্র মোদী কি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হতে চান— বীরভূমের সিউড়ির সভা থেকে ‘আমিই প্রার্থী’ মন্তব্যে এ ভাবেই কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২১-এর পর ২৬-এর নির্বাচনেও মমতার মুখে বিভিন্ন নির্বাচনী সভায় বলতে শোনা গিয়েছে, বাংলার ২৯৪টি কেন্দ্রে তিনিই প্রার্থী। অবিকল সেই কথা রবিবার শোনা যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায়। শিলিগুড়ির কাওয়াখালির জনসভা থেকে তিনিও নিজেকে সব কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই মন্তব্যকেই হাতিয়ার করে সোমবার আক্রমণ শানান তৃণমূল সুপ্রিমো।
এ দিন মমতা বলেন,‘মোদীজি বলছেন, উনি ২৯৪টি আসনের প্রার্থী। ঠিক আছে। তা হলে আপনি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিন। দিয়ে বলুন, আমি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হব। আমাকে ২৯৪ আসনে ভোট দিন।’
এখানেই শেষ নয়, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে নেত্রীর প্রশ্ন,‘আগে আপনি বলুন তো, দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন নাকি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী? আপনি তো বাংলায় বহিরাগত। আগে দিল্লি সামলান। তার পর বাংলার কথা ভাববেন।’
বাংলার প্রচার সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিপুল কর্মসংস্থানের দাবিকে তুলোধোনা করে পাল্টা নেত্রী প্রশ্ন তোলেন, ‘মোদীবাবুকে জিজ্ঞাসা করুন, কর্মসংস্থানের কী হলো। করবেন বলছেন কিন্তু এতদিন করেননি কেন? আপনারও তো ১২ বছর হলো। ২ কোটি চাকরি কোথায় গেল? রেলে গ্যাংম্যান নেয়নি। সেনায় একাধিক পোস্ট এখনও শূন্য। এ দিকে আমরা শূন্যপদ পূরণ করতে গেলেই কোর্টে কেস দেয়। যাতে চাকরিগুলো আটকে যায়। এখন চাকরির কথা! এ সব ছলনা আর বাংলার মানুষের সঙ্গে করতে এসো না।’ কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মমতা এ দিনের সভা থেকে থেকে জানিয়েছেন, দেউচা পঁচামিতে ৩২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে এবং ২ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কী বাত’ অনুষ্ঠান নিয়েও আক্রমণ শানান তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর কথায়, ‘বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলার নাম করে বাচ্চাদের মাথা খাচ্ছে।’
এ ছাড়া SIR থেকে NRC নিয়েও বিজেপিকে আক্রমণ শানান মমতা। ভোট কেটে বাংলার মানুষের নাম বাদ দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ধর্মের নামে বিভেদ নিয়েও বিজেপির তুমুল সমালোচনা করেন মমতা। বলেন, ‘এদের ধর্ম মানে বিষবৃক্ষ। মানুষের মাথায় বিষ ঢালা এদের ধর্ম! আর আমার ধর্ম মানবতা। আমাদের ধর্ম মানবতা।’
বিজেপির প্রচার স্ট্র্যাটেজি চার্জশিট-এরও তুমুল সমালোচনা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। পাল্টা বিজেপির নেতাদের বিরুদ্ধে কয়লা দুর্নীতির অভিযোগ আনেন তিনি। মমতার হুঁশিয়ারি,‘তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছ? তোমার নেতারা কয়লা থেকে কত টাকা তোলে? হলদিয়া বন্দর থেকে কত টাকা তোলে? কত টাকা যায় দিল্লি? সৌজন্যের খাতিরে আর বলছি না। এটাই আমাদের মধ্যে পার্থক্য। ইশারাই কাফি... বুঝে নাও।’ কমিশনের ‘আলটিমেটাম’ নিয়েও সিউড়ির সভা থেকে সরব হতে শোনা যায় তৃণমূল সুপ্রিমো।