পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বঙ্গের ভোটপ্রচারও। ভোট (WB Assembly Election 2026) যত এগোচ্ছে, ততই প্রচারের ঝাঁজ বাড়ছে সব শিবিরের। একদিকে, শাসকদলের প্রার্থীদের হয়ে রাজ্যজুড়ে জনসভা, রোড শো চলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অন্যদিকে, বিজেপির প্রচারে অবশ্য ভরসা দিল্লির নেতাদের ‘ডেলি প্যাসেঞ্জারি’। ছাব্বিশের বঙ্গভোটে গেরুয়া শিবিরের তারকা প্রচারকের তালিকায় রয়েছেন চার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার প্রথম দফায় প্রচারে এসেছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। যথারীতি বুলডোজার নিয়ে ফের হুমকির সুর শোনা গেল তাঁর মুখে। সোমবার তাঁকেই পালটা জবাব দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘‘আমরা কোনও বুলডোজার নীতিতে বিশ্বাস করি না, আমরা ভালোবাসায় বিশ্বাসী।”
রবিবার কাঁথি-সহ একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীদের প্রচারে এসেছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক ইস্যু তুলে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন তিনি। ফিরহাদ হাকিমের উর্দু বিতর্কের সমালোচনা থেকে বুলডোজার নীতি – উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে বাংলাতেও বদলের ডাক দিয়েছেন যোগী। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে পালটা জবাব দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সোমবার সিউড়িতে দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কাল এসে এখানে বলেছেন, উত্তরপ্রদেশের মতো এখানেও বুলডোজার চলবে। মানেটা কী? আমরা বুলডোজার-নীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা ভালোবাসার নীতি বিশ্বাস করি।” তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘বিজেপির কাছ থেকে টাকা নেবেন না। ভুল করবেন না। আমার কাজ আপনাদের সতর্ক করা। অ্যাকাউন্ট বানিয়ে টাকা দেবে বলে কালো টাকা দিয়ে দেবে। তার পর ইডি-সিবিআইয়ের মামলা করবে।”
সিউড়ি কেন্দ্রে এবারে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর হয়ে প্রচারে বললেন, ‘‘উজ্জ্বল নয়, এখানে ধরে নিন আমিই প্রার্থী। তৃণমূলের নেতৃত্বে সরকার চাইলে ২৯৪ আসনে আমাকেই প্রার্থী বলে ভেবে নিন।”