ছুটন্ত সিংহের গড় করণদিঘিতে এবারের বিধানসভা ভোটে (West Bengal Assembly Election) এই প্রথম কাস্তে হাতুড়ি তারা-য় দাঁড়িয়েছেন মহম্মদ সাহাবুদ্দিন। আর তাঁকে বিধানসভা ভোটের প্রার্থীপদে পেয়ে দৃশ্যত অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসছেন। যেন অদৃশ্য খুশির আবহ! মনোনয়নপত্র জমার দিন থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকার ছোট বড় ভোট প্রচারে মানুষজনের অভাবনীয় সাড়া। মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন রায়গঞ্জ শহরে মিছিলে যোগ দিতে ছোটবড় অন্তত পাঁচশো গাড়ি হাজির হয়েছিলেন করণদিঘির সমর্থকেরা। যা ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল। যদিও নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাতটি গাড়ি ব্যবহার করা যাবে। তবে করণদিঘির বাম বর্ষীয়ান প্রার্থীর দাবি, কোন আমন্ত্রণ ছাড়াই অতি উৎসাহী সমর্থকের নিজেদের খরচে গাড়ি ভাড়া করে মনোনয়নপত্র দাখিলের মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন।
সবমিলিয়ে ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই যেন তাঁর সান্নিধ্যে স্থানীয় মানুষজনদের ভিড় ভারী হচ্ছে। যদিও রাজনীতির অঙ্গনে একেবারে নতুন মুখ নন তিনি! তবে এই ভোটে জীবনে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে নজিরবিহীন নজর কাড়ছেন ষাটোর্ধ করণদিঘি কেন্দ্রের ভোটপ্রার্থী তথা বিড়ি কারখানার মালিক মহম্মদ সাহাবুদ্দিন। কিন্তু নেপথ্যের ম্যাজিক কি? এই চর্চা এখন গোটা উত্তর দিনাজপুরের সাধারণ মানুষজনদের মুখে মুখে ভাসছে। প্রশ্ন অনেক, কিন্তু ব্যক্তি একজনই। যদিও একেবারে হঠাৎ করেই স্থানীয়দের মনে অদ্ভুদভাবে এতটা জায়গা করে নিয়েছেন তিনি- বিষয়টা সম্ভবত এতটা সরলীকৃত মোটেই নয়।
আসলে সলতা পাকানোর কাজটা অনেক দিনধরেই চলছিল তাঁর। কখনও ইদের উৎসবে রায়গঞ্জ ভারত সেবাশ্রম সংঘে সর্বধর্ম সমন্বয় রক্ষায় যজ্ঞের আয়োজন। কখনও আবার রায়গঞ্জ শিশু সদনের অনাথ আবাসিক ছাত্রদের হাতে নতুন পোশাক প্রদান-সহ মধ্যাহ্নে তৃপ্তকর খাওয়া দাওয়ার আয়োজনে সামিল তিনি। কখন গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রতিভাধর ফুটবলারদের নিয়ে স্থানীয় টুঙ্গিদিঘির ময়দানে টুর্নামেন্টের আয়োজন। সেই সঙ্গে আর্ত মানুষজনদের পাশে দাঁড়িয়ে বছর ধরে নানা সামাজিক কাজে সক্রিয় ভুমিকায় সাদা ধুতি আর হাফ পাঞ্জাবি পরিহিত ৬৩ বছরের বয়সী এই বামপ্রার্থী।
উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘির দোমহনা পঞ্চায়েতের অজ এলাকা ভুলকি গ্রামের বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন। তাঁর দুই ছেলেমেয়ে। কন্যার বিয়ে হয়ে করণদিঘির শ্বশুরবাড়িতে। একমাত্র আব্বাসউদ্দিন অবশ্য রাজনীতির সংস্রব ছেড়ে ভুলকির বাড়িতে নিজস্ব সংসারে মগ্ন। মেয়ের বিয়ে হয়ে শ্বশুরবাড়িতে। আর স্ত্রী আজিভা খাতুন প্রাক্তন জেলা পরিষদের সদস্য। ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত সিপিএমের জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন। নিজে ২০০৩ থেকে করণদিঘি পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ছিলেন। তবে এই কেন্দ্রে বাম জমানার শুরু থেকে ফরওয়ার্ড ব্লকের দখলে ছিল। পরপর তিনবার ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রাক্তন বিধায়ক গকুল রায়কে সঙ্গে নিয়ে দিন পনেরো ধরে নিজের কেন্দ্রে প্রচারে ধুম ব্যস্ত এখন সাহাবুদ্দিন।
একেবারে নিয়ম করে রোজ সকাল নয়টা থেকে প্রচার রাত দশটা পর্যন্ত করণদিঘির বিস্তীর্ণ গ্রাম চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। সঙ্গে দলের কর্মীদের পাশাপাশি বহু সাধারণ সমর্থক। আর তাঁর ঘাড়ে নিয়ত নিশ্বাস ফেলছে প্রতিপক্ষের জাদরেল নেতা বিদায়ী বিধায়ক তৃণমূলের প্রার্থী গৌতম পাল। অন্যদিকে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী স্থানীয় ডালখোলার বাসিন্দা বিজেপির তরুণ প্রার্থী বিরাজ বিশ্বাস। কংগ্রেসের মর্তুজা আলম। তবে এসআইআরের পরবর্তী প্রথম ভোটে শেষপর্যন্ত জয়ের হাসি কার বরাতে রয়েছে, তা যেমন বলা সম্ভব নয়, তবে প্রচারের ভিড়ে অনেক কদম এগিয়ে থাকা সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেন,”প্রচুর মানুষজন তৃণমূল ছেড়ে আমার প্রচারে। কিন্তু রাজনীতির ভোট প্রচারে আমার ছেলেকে চাই না আমি।”