“আপনারা মেশিনে (ইভিএম) পদ্মের চিহ্ন খুঁজে নিলে, তৃণমূলের গুন্ডাদের আমরা খুঁজে বের করব”, সোমবার দুপুরে বীরভূমের বোলপুরে পল্লিমঙ্গল ক্লাবের মাঠে নির্বাচনী জনসভা থেকে ফের একবার রাজ্যের শাসকদলকে তোপ দাগলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit shah)। ক্ষমতায় এলে কাটমানি ও সিন্ডিকেটওয়ালাদের উলটো করে ঝুলিয়ে সোজা করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এদিন ফের ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে তোপ দাগেন অমিত শাহ।
জনসভায় দাঁড়িয়ে বদলা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। ময়ূরেশ্বরে বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে অমিত শাহ তৃণমূলের নেতা কর্মীদের ২৩ এপ্রিল ঘরে বসে থাকতে বলেন। নাহলে ৫ মে খুঁজে খুঁজে বের করে জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি। রাজ্যের মানুষ যাতে বোমার জবাব ব্যালটে দেন সেই বার্তা দেন অমিত।
বোলপুরের সভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি নিয়ে তোপ দাগেন। ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি, পুরনিয়োগ দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতি, মনরেগা দুর্নীতি, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন তিনি। মহিলাদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাত ১ টাতেও মেয়েরা স্কুটিতে বেরতে পারবে, এমন বাংলা বানাব। কোনও আর জি কর বা দুর্গাপুর হবে না। মেয়েরা সুরক্ষিত থাকবে সর্বত্র।” ক্ষমতায় এলে ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার কথা ফের একবার অমিতের মুখে শোনা গেল।
অমিত শাহের (Amit shah) অভিযোগ, জলজীবন মিশনের কোটি কোটি টাকা তৃণমূলের গুন্ডারা আত্মসাৎ করেছেন। ময়ূরেশ্বরের রাস্তার হাল নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। এমনকী শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “তৃণমূল বাংলার সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে পারে না। মোদিজি শান্তিনিকেতনকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি এনে দিয়েছেন। বাংলা ভাষাকে শাস্ত্রীয় ভাষা বানানোর কাজ মোদিজি করেছেন।” বীরভূমের বোলপুরের পর খয়রাশোলে জনসভা করেন অমিত। তারপর পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জে সভা করেন তিনি। সেই সভা থেকে বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে জেতানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি তাঁর আশ্বাস, ভোটে জিতলে জিতেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সোমবার যে সময় অমিত শাহ বীরভূমের বোলপুরে নির্বাচনী সভা করছিলেন ওই সময়েই বীরভূমের সিউড়িতে সভা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সভা থেকে মমতা ফের একবার কেন্দ্রের বঞ্চনার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, কেন্দ্রের বঞ্চনা সত্ত্বেও জলজীবন মিশন, আবাস যোজনা-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চালু রেখেছে রাজ্য সরকার।