• একুশের ‘গ্যাসে’র ব্যথা ছাব্বিশে আরও তীব্র! এবারও ভোটের ভরকেন্দ্রে সিলিন্ডার
    প্রতিদিন | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • সময় বদলেছে, বদলেছে নির্বাচনের বছর। কিন্তু আমজনতার গ্যাসের ব্যথা কমেনি। বরং তীব্রতা বেড়েছে। ছাব্বিশের ভোটেরও (West Bengal Assembly Election) ভরকেন্দ্রে সিলিন্ডার। রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম আর সিলিন্ডারের আকাল-এই দুই অস্ত্রেই ফের কেন্দ্রকে বিদ্ধ করতে রাজপথে নেমেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তরবঙ্গে সিলিন্ডার মিছিল করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সিলিন্ডারের দাম তখন ৬২০.৫০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৮৪৫.৫০ টাকায়। সেই সময় ‘গ্যাসের ব্যথা’ আমজনতার ভোটবাক্সে বড় প্রভাব ফেলেছিল। পাঁচ বছর ছাব্বিশের পেরিয়ে দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে চিত্রটা আরও ভয়াবহ।

    এখন সিলিন্ডার পিছু দাম ৯৩৯ টাকা। কিন্তু প্রশ্ন কেবল দামের নয়, প্রশ্ন সিলিন্ডার সরবরাহেরও। গ্রাহকদের অভিযোগ, আগে বুকিং করার ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলিন্ডার মিলত। এখন সেই সময়সীমা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ থেকে ১৫ দিন। সিলিন্ডার বুকিংয়ের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। ‘ইন্ডেন এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরস অ্যাসোসিয়েশন, ওয়েস্ট বেঙ্গল’-এর প্রাক্তন সম্পাদক বিজন বিশ্বাস জানিয়েছেন, সিলিন্ডারের সরবরাহ ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। যাঁর দশটা লাগত, তিনি সাতটার বেশি পাবেন না। সমস্যা আরও বাড়বে। কারণ হরমুজে নতুন করে কোনও ভারতীয় জাহাজ যায়নি। যা আসছে আটকে থাকা জাহাজ। যে সব আরব দেশ থেকে ভারত জ্বালানির কাঁচামাল কিনত তার অনেকগুলি ঘাঁটি যুদ্ধের জেরে ধূলিসাৎ হয়েছে। ফলে, যুদ্ধ থামলেও রাতারাতি এলপিজি-র জোগান ঠিক হওয়া মুশকিল। এখানেই কেন্দ্রকে একহাত নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

    তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ জানিয়েছেন, মোদি ইজরায়েল সফরে গিয়ে বেঞ্জামিনের সঙ্গে ম্যাচিং করে জামা পরলেন। অথচ যুদ্ধের কোনও আগাম খবর পেলেন না। এই কূটনৈতিক ব্যর্থতার জেরে ভুগছে গোটা দেশ। কেন পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রাখা হল না? সিপিএম নেতা রবীন দেব আরও একধাপ এগিয়ে জানিয়েছেন, শুধু জ্বালানি নয়, সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত। টাকার দাম কমছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে। এগুলিকে আড়াল করতে দুই সরকারই কায়দা করে ধর্মের তাস খেলছে। অন্যদিকে গেরুয়া শিবিরের পাল্টা দাবি, এখনও যথেষ্ট ভরতুকি দেওয়া হচ্ছে। নইলে এক-একটি সিলিন্ডারের দাম পড়ত ১৬০০ টাকা করে। যতটুকু দাম বেড়েছে তা বিশ্ববাজারের অস্থিরতার কারণেই। কিন্তু সেই যুক্তি সাধারণ মানুষের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে? সাধারণ মানুষ কি এই ‘গ্যাসের ব্যথা’ থেকে মুক্তি পাবেন, নাকি ভোটের গরমে কেবল রাজনীতির রুটিই সেঁকা হবে?
  • Link to this news (প্রতিদিন)