ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় কোনও রফাসূত্র মেলেনি। ‘ইসলামাবাদ টকস’ ভেস্তে যেতেই এ বার হরমুজ় দখলে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (American President Donald Trump)।
হরমুজ় প্রণালী (Strait of Hormuz) সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। পাল্টা ছেড়ে কথা না বলার পণ নিয়েছে ইরানও। হরমুজ় নিয়ে তেহরান-ওয়াশিংটনের টাসেলে বিপদে ভারত-সহ বিশ্বের একাধিক দেশ।
কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে খবর, আমেরিকার নৌ অবরোধের কারণে ইরানের বন্দরগুলির সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হরমুজ় প্রণালীর পশ্চিম দিকে অন্তত ১৫টি ভারতীয় জাহাজ আটকে রয়েছে। এই পরিস্থিতি শুধু ভারতীয় নৌ পরিবহণ নয়, গোটা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ়ে আটকে পড়া জাহাজগুলির মধ্যে রয়েছে LNG ও LPG বহনকারী জাহাজ, অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার, কন্টেইনার জাহাজ, একটি ড্রেজ়ার এবং একটি কেমিক্যাল ট্যাঙ্কার। এগুলির বেশিরভাগই উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে আসছিল বা পণ্য তুলতে যাচ্ছিল। হঠাৎ করেই পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তারা প্রণালীর মধ্যেই আটকে পড়ে। সেই জাহাজগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ভারতীয় নৌবাহিনী। যে কোনও বিপদে পণ্যবাহী জহাজগুলিকে উদ্ধারে পদক্ষেপ করবে তারা। বর্তমানে অন্তত ৬টি ভারতীয় নৌ-জাহাজ পারস্য উপসাগরের কাছে রয়েছে।
সামুদ্রিক চলাচল পর্যবেক্ষণকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বৃহত্তর অঞ্চলে চলাচলকারী ২৫টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজের মধ্যে ১০টি ইতিমধ্যে নিরাপদে হরমুজ় প্রণালী ত্যাগ করেছে । আটকে পড়া জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে এলএনজি ও এলপিজি বহনকারী জাহাজ, অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার, কন্টেইনার জাহাজ, একটি ড্রেজার এবং একটি রাসায়নিক ট্যাঙ্কার।
ইরানকে টেক্কা দিতে রবিবার ডন সোশ্যাল মিডিয়ায় তোপ দেগে বলেছেন, ‘এ বার আমরাই ব্লক করব হরমুজ়। এই ব্লকেজে অন্য দেশও অংশ নেবে। দেখি ইরান কী করে! ওই প্রণালী দিয়ে যাতে আর একটা জাহাজ যাতায়াত করতে না-পারে, তা অবিলম্বেই নিশ্চিত করার কাজ শুরু করবে বিশ্বের সেরা ইউএস নেভি।’ এর পরেই গোটা বিশ্ব আবার জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কায় প্রমাদ গুণছে। পশ্চিম এশিয়ায় তুঙ্গে উত্তেজনা।