• TCS-এ ধর্মান্তকরণ-যৌন হেনস্থা চক্র, ছদ্মবেশে ৬ মহিলা পুলিশ করলেন পর্দাফাঁস! কী ভাবে?
    এই সময় | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • কর্পোরেট দুনিয়ার চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক নিকষ অন্ধকার। মহারাষ্ট্রের নাসিক পুলিশের দৌলতে অবশেষে আলো পড়েছে সেখানে। দেশের অন্যতম বৃহৎ BPO ফার্ম, TCS-এর নাসিকের অফিসে মহিলা কর্মীদের উপরে চলত যৌন হেনস্থা ও ধর্মান্তকরণ, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়া।

    নির্যাতিতাদের অভিযোগ, সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগে এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি। অবশেষে এই চক্রের পর্দাফাঁস করলেন নাসিক পুলিশের ৬ জন মহিলা পুলিশকর্মী। ৪০ দিন ধরে ওই কর্পোরেট অফিসে আন্ডারকভার এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন তাঁরা। প্রায় ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার মতো।

    নাসিক পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে TCS-এর ওই অফিসের কয়েকজন কর্মীর অশালীন আচরণ সম্পর্কে গোপন খবর এসেছিল নাসিকের পুলিশ কমিশনার সন্দীপ কর্নিকের কাছে। হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, খবরের সত্যতা যাচাই করতে পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে ৬ জন মহিলা পুলিশকর্মীর এক বিশেষ দল বা SIT গঠন করা হয়।

    ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি ওই ৬ মহিলা পুলিশকর্মী, সাধারণ কর্মীর ছদ্মবেশে ওই অফিসে কাজ শুরু করেন। SIT-এর প্রধান সন্দীপ কর্নিক জানিয়েছেন, সুপরিকল্পিত ভাবে ফাঁদ পেতেছিলেন তাঁরা।

    মিটিংয়ের সময়ে বা ওয়ার্কস্টেশনে অভিযুক্তদের আচার-আচরণ কেমন থাকে, সে দিকে কড়া নজর রাখতেন এই মহিলা পুলিশকর্মীরা। প্রতিদিন অফিসের পরে তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ফিডব্যাক দিতেন। তা থেকে আগে পুলিশের কাছে অভিযুক্ত কর্মীদের সম্পর্কে যে সকল অভিযোগ এসেছিল, সেগুলি সত্যি বলে প্রমাণিত হয়।

    গত ২৬ মার্চ এক মহিলা কর্মীর ধর্ষণের অভিযোগের ভিত্তিতে দেওলালি থানায় প্রথম FIR-টি দায়ের হয়। এরপর মুম্বই নাকা থানায় আরও আটটি অভিযোগ জমা পড়ে। সব মিলিয়ে মোট ৯টি FIR দায়ের হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা মূলত টিম লিডার পদে কর্মরত, অধিকাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে:

    মহিলা কর্মীদের যৌন হেনস্থা, যৌন নির্যাতন এবং বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ।

    হিন্দু কর্মীদের নিশানা করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা। নামাজ পড়তে বাধ্য করা, গোমাংস খেতে বাধ্য করা, হিন্দু দেব-দেবীদের অপমান করা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার মতো অভিযোগ রয়েছে।

    কাজের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা বা বেতন বৃদ্ধির লোভ দেখিয়ে এই সকল মেনে নিতে বাধ্য করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অভিযোগকারীরা মানবসম্পদ বিভাগের ম্যানেজার-কে জানালেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

    এই HR ম্যানেজারকেও হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। TCS জানিয়েছে অভিযুক্তদের প্রত্যেককে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। পুলিশের তদন্তে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করছে বলেও জানিয়েছে। তবে TCS-এর মতো নামী সংস্থার অন্দরে এই অন্ধকার চক্রের খোঁজ, শোরগোল ফেলে দিয়েছে গোটা দেশে।

  • Link to this news (এই সময়)