ঋতভাষ চট্টোপাধ্যায়
সিউড়ির সভায় হঠাৎ কী হলো তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহের কেষ্ট কেন ‘দিদি’র সামনেই হাত নেড়ে কী একটা বলে সরে গেলেন? তা হলে কি ভোটের মুখে বীরভূমে এ বার কাজল-কেষ্ট দ্বন্দ্ব চরমে উঠল? দলের একাংশ অন্তত তেমনটাই বলছে। ধীরে ধীরে খোলসাও হলো কিছুটা। গত কয়েক দিন ধরে অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখের কথার লড়াই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেরই শিরোনামে এসেছে। সোমবার বীরভূমের সিউড়িতে সভা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সূত্রের দাবি, সেই সভা শুরুর আগে এ নিয়ে কড়া বার্তা দেন মমতা। আর সেখানেই চোখে পড়ার মতো ব্যবহার ছিল অনুব্রতর।
সিউড়ি বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে এ দিন ইরিগেশন কলোনির মাঠে জনসভা করতে আসেন মমতা। বক্তব্য রাখার আগেই মঞ্চে উঠে তিনি পৌঁছে যান বিকাশ রায় চৌধুরী, কাজল শেখের কাছে। সে সময়ে মঞ্চে কিছুটা দূরেই ছিলেন অনুব্রত। তাঁকেও ডাকেন মমতা। কিছু একটা বলেনও। এর পরেই অনুব্রতকে দেখা যায়, হাত নেড়ে কী একটা বলে দলনেত্রীর কথা না শুনেই মুখ ঘুরিয়ে চলে যেতে। মুহূর্তে সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে।
সূত্রের খবর, বীরভূমে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতে হস্তক্ষেপ করেন দলনেত্রী নিজে। সিউড়িতে এসে কেষ্ট, কাজল, বিকাশদের কড়া বার্তা দেন তিনি। সূত্রের দাবি, মমতা স্পষ্ট বলেন, অনেক কষ্ট করে এই দল তৈরি করেছেন। কোনও রকমের দ্বন্দ্ব তিনি মেনে নেবেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের এক নেতা দাবি করেন, ‘দলনেত্রী কাজল-অনুব্রতকে বলেন, কোনও রকমের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মানব না। যা ভুল বোঝাবুঝি আছে মিটিয়ে নে। অনেক কষ্ট করে দলটা তৈরি করেছি। কে কোন কোন এলাকা দেখবি দায়িত্ব ভাগ করে নে। যে ভাবেই হোক সিউড়িতে জয় চাই-ই।’
সেই নেতার দাবি, এই দায়িত্ব ভাগাভাগির কথা শুনেই গোঁসা হয় অনুব্রতর। ‘দিদি’র সামনেই হাত নেড়ে কিছুটা একটা বলে সরে যান। তবে এ নিয়ে অনুব্রত, কাজল কেউ-ই মুখ খুলতে রাজি হননি।