রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্র হুগলির জাঙ্গিপাড়া। এই কেন্দ্র থেকে দলকে জিতিয়েছেন পরপর তিন বার। এ বার কি লড়াইটা কঠিন? প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার কাঁটা রয়েছে জেতার পথে। নাকি জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা? কী বলছেন বিজেপি প্রার্থী? খুঁজে দেখল এই সময় অনলাইন।
জাঙ্গিপাড়া শ্রীরামপুর লোকসভার অধীনে। এই লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। জাঙ্গিপাড়া বিধানসভার বেশিরভাগই গ্রামীণ এলাকা। চণ্ডীতলা-১ ব্লকের আইনিয়া, হরিপুর, মশাট ও শিয়াখালা গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্র। রাজ্যে পালাবদলের আগে এই কেন্দ্র দীর্ঘদিন বামেদের দখলে থাকলেও ২০১১ সাল থেকে টানা তিন বার জিতেছেন তৃণমূল বিধায়ক স্নেহাশিস চক্রবর্তী। রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীও হয়েছেন। দু’বছর আগেই লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে এই কেন্দ্র থেকে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। ফলে লড়াই অনেকটাই সহজ বলে দাবি করছেন তৃণমূল প্রার্থী।
মন্ত্রী স্নেহাশিসের দাবি, ‘গত লোকসভা নির্বাচনে জাঙ্গিপাড়ায় ২৮ হাজার ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে। এ বার সেই ভোট আরও দশ হাজার বেড়ে ৩৫-৪০ হাজার ভোটে জাঙ্গিপাড়া থেকে জয়ী হতে চলেছি। অন্যান্য বারের থেকেও এ বারে মানুষ আরও বেশি সমর্থন করছে।’ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে গত পাঁচ বছরে। তবে বেশ কিছু এলাকায় গ্রামীণ উন্নয়ন নিয়ে মানুষের ক্ষোভ রয়েছে। বিদায়ী বিধায়কের কথায়, ‘যে মানুষগুলো উন্নয়নের অধীনে আসেনি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য। এখনও বেশ কিছু মানুষ বার্ধক্য ভাতা পাননি। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার পরেও এক বছরে ৩২ লক্ষ মাটির বাড়ি দিয়েছে তৃণমূল সরকার। তবে এখনও কিছু মাটির বাড়ি রয়েছে। জল জীবন মিশনের কিছু কাজ বাকি রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার টাকা আটকে রাখায় সেই কাজ করা যাচ্ছে না। গ্রামীণ এলাকায় জল পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।’
মন্ত্রীর এলাকাতেও বহু জায়গায় আটকে উন্নয়নের কাজ— এমনটাই দাবি বিরোধীদের। বেশ কিছু গ্রামীণ রাস্তায় এখনও চলা দায়। পানীয় জলের সমস্যাও তুলে ধরছেন সাধারণ মানুষ। বড়গাছিয়া থেকে চাঁপাডাঙা পর্যন্ত রেলের দাবি রয়েছে। কৃষকদের জন্য হিমঘর করার দাবি করেছেন অনেকে।
২০১৬ সালে এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন প্রসেনজিৎ বাগ। পরের বার প্রার্থী বদল হয়। ২১-এর নির্বাচনে প্রার্থী করা হয় দেবজিৎ সরকারকে। এ বার ফের বিধানসভার লড়াইয়ে প্রসেনজিৎ। তাঁর বক্তব্য, ‘জাঙ্গিপাড়া একাধিক উন্নয়ন হয়েছে বলে দাবি করছেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী। এ প্রসঙ্গে বিজেপি প্রার্থী বলেন, ‘বর্ষাকালে রাস্তা দিয়ে চলা যায় না। দু’-একটা ডাক্তার দিয়ে হাসপাতাল চলছে। শুধু নীল-সাদা বাড়ি করে দিলেই উন্নয়ন হয়ে গেল? ভোটের আগে রাস্তা তৈরি করছেন, পাঁচ বছর ধরে কোনও উন্নয়ন হয়নি।’
মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র স্থান ফুরফুরা শরিফ অবস্থিত এই বিধানসভা এলাকাতেই। রয়েছে ভালো সংখ্যক মুসলিমদের বসবাস। তৃণমূল প্রার্থীর দাবি, ‘নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে এসআইআর করে লক্ষ লক্ষ প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দিয়ে দিচ্ছে। এ ভাবে তারা বাংলা দখল করতে চায়। কিন্তু বাংলার মানুষ ভোট বাক্সে বাংলা থেকে এই বিজেপিকে নির্মূল করে ছাড়বে। অন্য দিকে, বিজেপি প্রার্থী বলছেন, ‘সংখ্যালঘুরা বুঝতে পেরেছে কোনও কাজ হয়নি। আমরা সব সময় বলি সবকা সাথ, সবকা বিকাশ। জাঙ্গিপাড়া এলাকার সংখ্যালঘুরা বুঝতে পেরেছে, তাই তারা ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে থাকবে।’
রিপোর্টিং: সুজয় মজুমদার