• পোস্টালে ভোটগ্রহণ নিয়ে বচসা-বিক্ষোভ, মৃত্যু বৃদ্ধার, রায়গঞ্জের ঘটনায় শোরগোল
    এই সময় | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন আগামী ২৩ এপ্রিল। তার আগে পোস্টাল ব্যালোটে ভোটগ্রহণের সময়ে এক ভোটারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে। মৃত ভোটারের নাম তফিজান বিবি (৭৫)। ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জের মাড়াইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ভিটি এলাকায় ৬১ নম্বর বুথে। ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    জানা গিয়েছে, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী এ দিন স্থানীয় বিএলও-সহ নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ওই এলাকায় পৌঁছয়। সেখানে বয়স্ক ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ভোট গ্রহণের কাজ শুরু হয়। অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দা বিশেষ ভাবে সক্ষম অশীতিপর কালু শেখের ভোট গ্রহণের জন্য তাঁর বাড়িতে গেলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

    পরিবারের দাবি, কালু শেখ চোখে ঠিকমতো দেখতে পান না, হাতে পায়েও সমস্যা রয়েছে। সেই যুক্তি দেখিয়ে তাঁর মেয়ে জাহিদা খাতুন ভোটদানের সময় পাশে থাকতে চান। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা তা নাকচ করে দেন। তাঁদের জানানো হয়, নিয়ম অনুযায়ী প্রিসাইডিং অফিসারই ভোট গ্রহণ করবেন এবং পরিবারের অন্য কেউ উপস্থিত থাকতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় বচসা। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী ও নেতৃত্বরা উপস্থিত হলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী, ভোটকর্মী এবং স্থানীয়দের মধ্যে তুমুল বাদানুবাদ শুরু হয়।

    এই উত্তেজনার মধ্যেই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন কালু শেখের স্ত্রী তফিজান বিবি। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা ভোট কর্মীদের আটক করে পথ অবরোধ শুরু করে বিক্ষোভ দেখায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় ছুটে আসে আরও অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী

    মৃতার মেয়ে জাহিদা খাতুন বলেন, ‘আমার মায়ের মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনের কর্মীরাই দায়ী। আমরা বলেছিলাম যে বাবা চোখে দেখতে পায়না, উনি ভোট কোথায় দেবে বুঝতে পারবে না তাই আমি বা আমার দাদা কেউ সঙ্গে থাকার কথা বলি, কিন্তু ওঁরা তা মানেননি। ওঁরা আমাদের ঘর থেকে বের করে দেয়। পাশাপাশি ওরা আমাদের গ্রেপ্তার করার ভয় দেখায়। সেই সময়েই মা অসুস্থ হয়ে পড়ে।’

  • Link to this news (এই সময়)