আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়ার সময় যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং যাঁদের আপিল এখনও আপিল ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে, তাঁদের অন্তর্বর্তীকালীন ভোটাধিকার দিতে রাজি হল না সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এই আবেদনে সম্মতি দিলে ভোটার তালিকায় থাকা ভোটারদের ভোটদানের অধিকার স্থগিত করতে হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে সোমবার পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার শুনানি হয়। সর্বোচ্চ আদালত উল্লেখ করেছে যে, নির্বাচন পরিচালনার চাপের কারণে এই প্রক্রিয়াটি যেন বিকৃত না হয়। সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, ভোটার তালিকায় থাকার অধিকার শুধু সাংবিধানিকই নয়, এর একটি আবেগগত দিকও রয়েছে এবং এটি রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। আদালত আরও বলেছে যে, এ ধরনের বিষয় মোকাবিলা করার সময় কর্তৃপক্ষ নির্বাচনের চাপে গণ্ডগোল না করে ফেলেন।
এদিন শুনানিতে তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে সওয়াল করেন, ইতিমধ্যে ১৬ লক্ষ আবেদন করা হয়েছে। তাঁদের ভোটদানের সুযোগ দেওয়ার জন্য আবেদন জানান তিনি। উত্তরে প্রধান বিচারপতি বলেন, “যদি আমরা এই অনুমতি দিই, তা হলে যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাঁদের ভোটাধিকারও স্থগিত করতে হবে।”
ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) অনুসারে, পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফার ভোটার তালিকা গত ৬ এপ্রিল ফ্রিজ করা হয়েছে এবং ৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটার তালিকা ফ্রিজ করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সরাসরি ট্রাইব্যুনালের কাজে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, আপিল প্রক্রিয়াকে কাজ করতে দেওয়া উচিত। তবে, আবেদনকারীরা অভিযোগ করেছেন যে ট্রাইব্যুনালের সামনে নথি পেশ করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সহযোগিতা করছে না।
প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমরা এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি করতে পারি না, যাতে ট্রাইবুনালের বিচারপতিদের উপর আরও চাপ পড়ে।”
বিচারপতি বাগচী এসআইআরের কার্যক্রমের চাপ ও গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন যে, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মামলা পরিচালনা করছেন। যার ফলে ভুলের সুযোগ তৈরি করছে। তিনি অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়ার বিষয়গুলি মোকাবিলার জন্য একটি শক্তিশালী আপিল কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।