• এবার ভোটে নতুন, থাকছে ডবল লেয়ার আইডেন্টিফিকেশন
    আজকাল | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • মিল্টন সেন, হুগলি, ১৩ এপ্রিল: আসন্ন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের তরফে নতুন ব্যবস্থা ‘‌ডবল লেয়ার আইডেন্টিফিকেশন’‌। যার অর্থ, দুই দফায় হবে পরিচয়পত্র যাচাই। বুথে প্রবেশের মুখে ভোটারদের পরিচয় খতিয়ে দেখবে বিএলওরা। তারপরেই বুথের ভেতরে প্রবেশাধিকার পাবেন ভোটাররা। বুথের ভেতরে এবং বাইরে থাকবে ওয়েবকাস্টিং ক্যামেরা। প্রতি বুথে থাকবে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। কমিশনের গাইডলাইন নিয়ে সোমবার হুগলি জেলাশাসক দপ্তরে বৈঠক করেন হুগলি জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি। উপস্থিত ছিলেন চন্দননগর পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার যাদব, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার সানি রাজ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিক নকুল ভার্মা এবং ভি ভিধুন। 

    বৈঠক শেষে আধিকারিকরা জানান, নির্বাচন অবাধ এবং সুষ্ঠুভাবে করতে যা যা প্রয়োজন সবকিছুই গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সমস্ত রাস্তায় নাকা চেকিং করা হচ্ছে। যাতে কোনওরকম বেআইনি অস্ত্র বা নগদ টাকা লেনদেন না হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। ভোটের দিন অথবা ভোটের সময় কোন ভায়োলেন্স বরদাস্ত করা হবে না। ছাপ্পা ভোট করা যাবে না। ওয়েব কাস্টিং ক্যামেরার মাধ্যমে ভেতরে এবং বাইরে নজরদারি চালানো হবে। বুথের ভেতরে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না কোনও ভোটার। মোবাইল বাইরে জমা দিয়েই তাকে প্রবেশ করতে হবে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে। ভোটার চিহ্নিতকরণ টিম থাকবে ভোটের বাইরে। যাকে ডবল লেয়ার আইডেন্টিফিকেশন বলা হচ্ছে। ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্ট বুথে বিএলওরা থাকবেন। তারাই চিহ্নিত করবেন বৈধ ভোটারদের। স্ট্যাটিক সার্ভিলেন্স টিম কাজ করবে।

     এদিন জেলাশাসক বলেন, নির্বাচন বিধি লাগু হবার পর এখনও পর্যন্ত ১৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকার বেআইনি মদ ধরা হয়েছে। হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার বলেন, সিঙ্গুর চন্ডীতলা এলাকায় বেআইনি মদ তৈরি করা হয়। গত এক মাসে সেখানে ৮ কোটি টাকার মদ আটক করা হয়েছে। গ্রামীণ পুলিশের এলাকায় ৪১টা নাকা চেকিং পয়েন্ট করা হয়েছে। চন্দননগর পুলিশ কমিশনার বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে প্রত্যেক বুথে প্রত্যেক এলাকায় রুট মার্চ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১৫৯৮টি রুট মার্চ করা হয়েছে এলাকা জুড়ে। এসএসটি, এফএসটি নাকা চেকিং চলছে। চন্দননগরে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার গাঁজা আটক করা হয়েছে। চুঁচুড়া ফেরিঘাট থেকে ৯৬ হাজার টাকা আটক করা হয়েছে। এলাকার দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি যারা সংশোধনাগারে রয়েছে তাদের উপরেও নজরদারি চালানো হচ্ছে।

     হুগলি গ্রামীণ এলাকায় সোনার গহনা এবং বেআইনি অস্ত্র আটক করা হয়েছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন এখনও পর্যন্ত ৪৬ কোম্পানি বাহিনী এসেছে। ভোটের দিন অন্তত ২০০ কোম্পানি বাহিনী এলাকায় মোতায়েন থাকবে। অত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় বেশি করে সেই বাহিনীকে ব্যবহার করা হবে। নির্বাচনের দিন কোনও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, যদি কোনও ঘটনা ঘটে তবে বাহিনী সাহায্য নিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রনে আনা হবে। জেলাশাসক জানান হুগলি জেলায় ৫৩৮৭ ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ভোটার অনুমানিক ৪৩ লক্ষের কিছু বেশি রয়েছে। এবারেও প্রত্যেক বিধানসভায় একটি করে মডেল বুথ করা হবে। থাকছে একাধিক মহিলা পরিচালিত বুথ। ত্রিশ হাজার প্রবীণ ভোটার যাদের বয়স ৮৫ ঊর্ধ্বে এবং যারা বিশেষভাবে সক্ষম তারা আবেদন করেছেন। তাদের ভোট বাড়িতে গিয়েই নেওয়া হবে। আগামী ১৮ তারিখ থেকে সেই কাজ শুরু হবে। নির্বাচন কমিশন যে সাতটি বিধি মানতে নির্দেশ দিয়েছে সেগুলো মেনে চলতে হবে।
  • Link to this news (আজকাল)