• একাই প্রচার সারেন এই বিধানসভার কংগ্রেস প্রার্থী
    আজকাল | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: সবসময়ের সঙ্গী একখানা ইলেকট্রিক বাইক। কখনও সঙ্গে থাকেন গোটা দুয়েক প্রচারসঙ্গী, আবার বেশির ভাগ সময়েই সঙ্গে একজনকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন প্রচারে।

    স্থানীয়দের বাড়িতে যান, কথা বলেন তাঁদের সঙ্গে, পাশে থাকার আশ্বাস দেন। কিন্তু নির্বাচনের আগে প্রচারে তাঁর পাশেই বেশি কাউকে দেখা যায় না। তিনি বর্ধমান উত্তর কেন্দ্রের জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী সুদীপ দাস।

    আপাতত নির্বাচনী প্রচারে কখনও বাবা, কখনও দাদা সাহায্য করছেন তাঁকে। এলাকাই সাধারণ ঘরের ছেলে সুদীপ। চাষবাস আর টুকিটাকি কাজ করে দিন চলে। পাশের কেন্দ্রে তাঁর দলেরই গৌরব সমাদ্দারের মতো বড় পদ বা প্রচার তাঁর নেই।

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পেয়েছেন কংগ্রেসের হয়ে। কিন্তু অন্যান্য প্রার্থীদের মতো জাঁকজমক চোখে পড়েনি সুদীপের প্রচারে। বর্ধমান উত্তর কেন্দ্র থেকে একসময় জিতেছেন কিংবদন্তি কমিউনিস্ট নেতা বিনয় চৌধুরী।

    আবার কখনও নিশীথ অধিকারী, কখনও প্রদীপ তাকে জিতিয়েছে এই কেন্দ্র। ২০১৬ সালে একসময়ের অন্যতম বড় বাম ঘাঁটি থাকা এই আসন ছিনিয়ে নেন দু’বারের বিধায়ক নিশীথ মালিক।

    এবারের নির্বাচনে তাঁর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আছেন বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাস। প্রচারে টক্কর দিয়েছেন তিনিও। এসবের মধ্যে কখনও নিজের হাতে পোস্টার লিখে, নিজেই ব্যানার টাঙিয়ে, গাড়িতে দলের পতাকা নিয়ে প্রচারে বেরিয়ে পড়ছেন সুদীপ একাই।

    আবার কখনও বাবা বা দাদা, কখনও এক দু’জন দলের কর্মীকে নিয়ে চেষ্টা চালাতে কসুর করছেন না। রাজনৈতিক মহলেরও নজর কেড়েছে সুদীপের এই হার না মানা মনোভাব।

    শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা রাজেন মুখার্জি অবশ্য বলছেন, ‘ওর সঙ্গে কোনও লোকই নেই। সে কারণেই এসব ধানাই পানাই। ওর পরিবারও রাজ্য সরকারের প্রকল্প নিয়ে লাভবান।’

    তবে রাজেন এও বলছেন, ‘গণতন্ত্র আছে, যে কেউ দাঁড়াতে পারেন।’ তবে এর বেশি গুরুত্ব দিতে চাননি তিনি। তৃণমূল নেতার এই খোঁচা গায়ে না মেখে সুদীপ দাস জানান, ‘ওরা তো মানুষকে এতদিন ভোট দিতেই দেয়নি। আমার এই সাধ্য নিয়ে আমি যতটা পারি গ্রামে গ্রামে ঘুরব।’ সুদীপের পাল্টা দাবি, প্রকল্প তো সবই কেন্দ্রের। কেন্দ্র টাকা দেয়, ওরা নাম পাল্টান।
  • Link to this news (আজকাল)