• ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারীদের ভোট নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য ‘প্রশ্নই ওঠে না’
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে কয়েক লক্ষ ‘ব্রাত্য’ ভোটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে  পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। সোমবার এসআইআর মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শুধুমাত্র ট্রাইব্যুনালে আবেদন করলেই ভোটাধিকার পাওয়া যাবে—এমন সুযোগ করে দেওয়ার প্রশ্ন নেই। আদালতের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের উপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি হবে, যা বাস্তবসম্মত নয়। ফলে, বহু ভোটারের ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    শুনানির শুরুতেই তৃণমূল সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ইতিমধ্যে প্রায় ১৬ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। রঘুনাথগঞ্জ-সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশিত তালিকায় বহু নাম এখনও ‘আন্ডার অ্যাডজুডিশন’ হিসেবে রয়ে গেছে। তিনি আবেদন করেন, ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের আগে দ্রুত এই মামলাগুলির নিষ্পত্তি করে সংশ্লিষ্টদের ভোটদানের সুযোগ দেওয়া হোক। তাঁর কথায়, ‘রাজ্যের মানুষ এখন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে।‘

    এর জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, যদি আবেদন করলেই ভোটের অনুমতি দেওয়া হয়, তবে বর্তমানে তালিকাভুক্ত ভোটারদের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও উল্লেখ করেন, ৯ এপ্রিল বা তার ঠিক পরেই যদি কোনও আপিলের নিষ্পত্তি হয় তাহলেই নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রয়েছে।

    অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান দাবি করেন, বিচারাধীন তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার স্বার্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর আদালত বিষয়টি নিয়ে ভাবার জন্য সময় চেয়েছে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘আমাদের দুই পক্ষের যুক্তিই মাথায় রাখতে হবে।‘

    উল্লেখ্য, প্রায় ৯১ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। পাশাপাশি, নির্বাচন চলাকালীন বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)