• দুর্গাপুর থেকে বিজেপি এবং কমিশনকে একযোগে কটাক্ষ মমতার
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • সোমবার চার জায়গায় নির্বাচনী সভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিউড়ির পর কাঁকসায় সভা করেন তিনি। সেখানে আউশগ্রামের প্রার্থী শ্যামাপ্রসন্ন লোহার এবং অলোককুমার মাঝির সমর্থনে প্রচার করেন তৃণমূলনেত্রী। তার পর বাঁকুড়ার প্রার্থী অনুপ মণ্ডলের জন্য তামলিবাঁধ স্টেডিয়াম থেকে হিন্দু হাই স্কুল পর্যন্ত পদযাত্রা করেন। এর পর মুখ্যমন্ত্রী চলে যান দুর্গাপুরে। চতুরঙ্গ ময়দানে দুর্গাপুর পূর্ব এবং পশ্চিম বিধানসভার দুই প্রার্থী প্রদীপকুমার মজুমদার এবং কবি দত্তের সমর্থনে সভা করেন।

    জনসভা থেকে বিরোধীদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, কিছু জায়গায় বিরোধীরা মিলিতভাবে ভোটের খেলায় নেমেছে। এছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে বহু অফিসারকে বদলি করা হয়েছে, যাতে বেআইনি অর্থ ও মাদক পাচার রোখা না যায়।তিনি বলেন ‘কোথাও কংগ্রেসের সঙ্গে, কোথাও সিপিএমের সঙ্গে আন্ডারস্টান্ডিং করে ভোট করেছে। আর আমাদের এখানে পাঁচশোর বেশি অফিসারকে বদলি করে দিয়েছে! কেন? যাতে ড্রাগ ধরতে না পারে।‘

    তিনি আরও বলেন, তাঁকে ভয় দেখিয়ে কোনও লাভ নেই—প্রয়োজনে জেলে পাঠানো হলেও তিনি আরও বেশি মানুষের সমর্থন পাবেন। বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বাইরে থেকে লোক এনে সভা ভরানোর প্রয়োজন তাঁর নেই, কারণ সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁকে সমর্থন করে। মমতা বলেন, ‘আমি মানুষকে চিনি। প্রধানমন্ত্রীর মিটিংয়ে বাইরে থেকে ট্রেনে করে লোক আনে। ৫০০ টাকা দিয়ে। আমাকে বাইরে থেকে লোক আনতে হয় না। আমায় ভালবেসে মানুষ আসেন।’ পাশাপাশি তিনি কর্মীদের বুথে থাকতে এবং কোনওভাবেই ভীত না হতে বলেন।

    অন্যান্য রাজ্যে নারী নির্যাতন এবং চাকরির প্রতিশ্রুতি নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করেন।  তিনি বলেন ‘মহাশয়ের রাজ্যে উন্নাওয়ের বিচার হয়েছে? বিলকিস বিচার পেয়েছেন? বলছেন, সোনার বাংলা গড়বেন। বলছেন, সব শূন্যপদ পূরণ করবেন। আগে নিজেদের রাজ্যে চাকরি দিন। বছরে ২ কোটি চাকরি কোথায়?’তিনি বলেন, উন্নয়নের বড় বড় কথা বলার আগে নিজেদের রাজ্যের সমস্যা মেটানো উচিত। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সপ্তম বেতন কমিশন ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে, তাই এ নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

    বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি তাদের ‘ডেঞ্জারাস’ বলে উল্লেখ করেন এবং সতর্ক করেন, বাংলার মানুষের সঙ্গে খেলতে আসা উচিত নয়। তাঁর মতে, অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করলে তার ফল ভোগ করতে হবে। মমতা বলেন, বাংলার উন্নয়নকে বাধা দিলে দিল্লিকেও রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত তিনি।

    সবশেষে তিনি আশ্বাস দেন, রাজ্যে চাকরির ক্ষেত্রে দুর্নীতি বা বাইরের লোকের প্রভাব বরদাস্ত করা হবে না। যদি তাঁর দলের কেউ অন্যায় করে, তাকেও কঠোরভাবে শাস্তি দেওয়া হবে। মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সম্পর্কই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)