রবিনসন স্ট্রিট মনে করাল মিরাট! মেয়ের দেহ আগলে চার মাস এক ঘরে বাবা
প্রতিদিন | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
রবিনসন স্ট্রিটের স্মৃতি এখনও ফিকে হয়নি বাংলার মানুষের মন থেকে। এর মধ্যেই এবার উত্তরপ্রদেশে একই ধাঁচের একটি ঘটনার সাক্ষী থাকল মিরাট। দাবি, ৩৪ বছরের কন্যার মৃত্যুর পর চারমাস বাবা সেই দেহ আগলে রেখেছিলেন। পচনের গন্ধ ছড়ানো এড়াতে ছড়াতেন সুগন্ধীও। এমন এক ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য এলাকায়।
জানা গিয়েছে প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস নামের ওই যুবতী ও তাঁর বাবা উদয়ভানু বিশ্বাস থাকতেন একটি বাড়িতে। উদয়ভানুর স্ত্রী মারা যান ২০১৩ সালে। তারপর থেকেই মেয়ে ও বাবা খুব বিষণ্ণ থাকতেন বলে স্থানীয়দের দাবি। কিন্তু সেই সঙ্গেই তাঁদের দাবি, এরকম এক কাণ্ড যে ঘটে যাবে তা অভাবনীয়। প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন, গত চার মাস ধরে ঘরের দরজা বন্ধই ছিল। কেউই বুঝতে পারছিলেন না বাড়ির বাসিন্দারা কোথায় গিয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি উদয়ভানুকে পার্শ্ববর্তী এলাকার একটি চায়ের দোকানে চা খেতে দেখা যায়। তাঁর কাছে প্রিয়াঙ্কা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি প্রাথমিক ভাবে বলেন তাঁর মেয়ে অসুস্থ হয়ে দেরাদুনের একটি হাসপাতালে ভর্তি। কিন্তু তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি মেলায় আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকেন আত্মীয়রা। অবশেষে তিনি স্বীকার করেন, মেয়ে আর বেঁচে নেই। এবং প্রিয়াঙ্কার দেহ এখনও বাড়ির ভিতরেই রয়েছে।
এই কথা শুনেই চমকে ওঠেন সবাই। দ্রুত খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পুলিশ এসে বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকলে দেখা যায় একটি ঘরে প্রিয়াঙ্কার কঙ্কাল পড়ে রয়েছে। ঘরময় পুরনো কাগজ ও ময়লা। আত্মীয়দের আরও দাবি, মেয়ের মৃত্যুর পরেও অন্তত তিন থেকে চারদিন একই ঘরে থেকেছিলেন উদয়ভানু।
প্রিয়াঙ্কার তুতো ভাই বিশ্বজিৎ বিশ্বাস জানিয়েছেন, প্রিয়াঙ্কা দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। তাঁর মানসিক রোগেরও চিকিৎসা চলছিল। এভাবেই অসুস্থ ছিলেন প্রিয়াঙ্কার মা-ও। তিনি ২০১৩ সালে মারা যান। এরপর থেকেই মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত বাবা ও মেয়ে নিভৃতবাস বেছে নেন। পুলিশ জানাচ্ছে, পুরো বিষয়টিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আরও তথ্যপ্রমাণ হাতে এলে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।