মালদহ, রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ মিলিয়ে তিন জেলায় প্রার্থীদের সমর্থনে ভোটের প্রচারে আসছেন রাহুল গান্ধী। তার আগে তৃণমূলের প্রবল কটাক্ষে পড়লেন কংগ্রেসের এই জাতীয় নেতা। তৃণমূলের অভিযোগ, নিজেদের রাজ্যে বিজেপিকে রুখতে ব্যর্থ হয়ে এখন বাংলায় ভোট কেটে বিজেপিকে সুবিধা করে দিতে আসছেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। জাতীয় স্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাসঙ্গিকতা বেড়ে যাচ্ছে, তাতেই গায়ে জ্বালা হচ্ছে রাহুল গান্ধীর।
শুধু রাহুল নন, এরপর প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে ও দলের জাতীয় নেতারাও আসছেন প্রচারে। সবই মূলত উত্তরবঙ্গকেন্দ্রিক। মালদহ, দুই দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ মিলিয়ে চলবে প্রচার। মঙ্গলবার থেকেই সেই প্রচার রাহুল গান্ধীর সফরের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে। তাতেই তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে তৃণমূল। ইতিমধ্যে খাড়্গে, জয়রাম রমেশরা কলকাতায় এসে তৃণমূলকে আক্রমণ করে গিয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে সোমবার সরব হয়েছে তৃণমূল। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের স্পষ্ট বক্তব্য, “গণতান্ত্রিক রাজ্য, যে কেউ প্রচারে আসতে পারেন। কিন্তু মহারাষ্ট্র, দিল্লি, হরিয়ানা, বিহার সেখানে বিজেপিকে হারানোর সুযোগ ছিল কংগ্রেসের কাছে সেখানে তো তারা ব্যর্থ হল। না হলে বিজেপি ওখানে সরকার গড়তে পারত না। আর বাংলায় যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিজেপিকে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে রুখে দিতে পারছে, সেখানে ভোট কেটে বিজেপিকে সুবিধা করে দিতে আসছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।”
এই প্রসঙ্গেই সরাসরি রাহুল গান্ধীর নাম করেই তৃণমূলের তোপ, “বিজেপিকে রুখতে ব্যর্থ হয়ে নিজেদের রাজ্যে কংগ্রেস হেরে গেল। ভোটার তালিকায় কারচুপি রুখতে পারল না। পরে চেঁচামেচি করল। আর প্রথম দিন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কারচুপি ধরেছেন। আর এখন কংগ্রেস এখানে আসছে!” তাঁর কথায়, “অবিজেপি ধর্মনিরপেক্ষ দল হিসাবে তৃণমূল বিজেপিকে রুখে দিচ্ছে, তাতে কি কংগ্রেস আর রাহুল গান্ধীর গায় জ্বালা ধরছে?” এর আগে সরকারে থাকা কংগ্রেসের একাধিক রাজ্যে সেখানকার দলীয় বিধায়করা একে একে বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় পরপর সেখানে সরকার ভেঙে বিজেপি সরকার গড়ে নেয়। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা তার সব থেকে বড় দৃষ্টান্ত।
সেই প্রসঙ্গ টেনে কুণাল বলেন, “বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের বিধায়করা সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। যেখানে বিজেপির বিভিন্ন রাজ্যে সরকার গঠন করতে সুবিধা হয়েছে। কংগ্রেস তো নিজেদের দুর্গ রক্ষা করতে পারছে না। অন্যদিকে, ইন্ডিয়া ব্লকে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল সমাজবাদী পার্টি আর কংগ্রেসের মতো অন্যান্য বিরোধীদের সম্মান দিয়ে তৃণমূল তাদের দায়িত্ব পালন করছে। তার সঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাসঙ্গিকতা বেড়ে যাচ্ছে। এতেই কি কংগ্রেসের গায়ের জ্বালা বেড়ে যাচ্ছে? জোট ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়ে তাই বিজেপিকে সুবিধা করে দিচ্ছেন?” কুণালের দাবি, “বাংলার মানুষ সব জানেন। যারা বিজেপিকে হারাতে চান তারা অন্য রাজ্যে ব্যর্থ হওয়া কংগ্রেসকে ভোট দিয়ে ভোট নষ্ট করবেন না।”