ট্রাইব্যুনালের কাজ শুরু হলেও মিলল না সুরাহা! দুশ্চিন্তা নিয়েই ফিরলেন এসআইআরে ‘ডিলিটেড’ ভোটাররা
প্রতিদিন | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাইব্যুনালের কাজ শুরু হলেও মিলল না সুরাহা। দিনভর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেও দুশ্চিন্তা নিয়ে ফিরতে হল SIR প্রক্রিয়ায় বাদ যাওয়া ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ট্রাইব্যুনাল (SIR Tribunal) গঠিত হয়েছে। যাদের নাম এসআইআরের প্রাথমিক পর্বে বাদ চলে গিয়েছে, সেক্ষেত্রে তাঁদের নতুন করে নাম তোলার আবেদনের সুযোগ দিতে সোমবার থেকে জোকার শ্যামাপ্রসাদ ইনস্টিটিউটে ট্রাইব্যুনাল তৈরি হয়েছে। আর সেই ট্রাইব্যুনালের বাইরে নাম বাদ পড়া মানুষের ভিড় দেখা যায়। সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে হাজির হন। আবেদন জানানোর জন্য লাইন দেনও দীর্ঘক্ষণ। সময়সূচী মেনে ট্রাইবুনালে উপস্থিত হন বিচারপতিরাও। কিন্তু একসময় ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা জানিয়ে দেন, কাজ হবে না! পরে কবে হবে তবে জানিয়ে দেওয়া হবে। বিভ্রান্তি থাকলে তখনই ডাকা হবে আবেদনকারীদের। আর এর পরেই একটা সংশয় তৈরি হয়েছে এদিন উপস্থিত হওয়া আবেদনকারীদের মধ্যে। কি হবে ! এসব ভাবনাচিন্তার মধ্যেই তাঁরা ফিরতে বাধ্য হতে হন।
সোনারপুরের বাসিন্দা সোহানা ভোট দিয়েছিলেন ২০২৫ সালে। কিন্তু বাপ-ঠাকুরদা তাদের নাম থাকলেও এসআইআর-এ তাঁর নাম বা চলে গিয়েছে। সোহানা বলেন, “সমস্ত ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার পরেও এক্সট্রা অনেক ডকুমেন্ট জমা দেওয়া হয়। প্রথম তালিকায় নাম ছিল। কিন্তু হঠাৎ-ই দ্বিতীয় তালিকা থেকে নামা চলে গেছে। কি কারন বুঝতে পারছি না। বিএলওর কাছে যাওয়া হলেও বলতে পারছে না।”
হাওড়ার বাসিন্দা শোভন মল্লিক এদিন তাঁর দাদুর ‘ম্যারেজ সার্টিফিকেট’ নিয়ে উপস্থিত হন। তালিকা থেকে তাঁর, তাঁর মা ও ভাইয়ের নাম বাদ চলে গিয়েছে। এদিকে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে খালি হাতে ফিরতে হল বেহালা পশ্চিমের বাসিন্দা চক্রবর্তীকে। ২০০২ এর ভোটার তালিকায় তার নাম ছিল কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়ায় হঠাৎ তার নাম নেই। প্রথমে বিবেচনাধীন তালিকায় না মেলেও পরে তা বাদ চলে যায়। একই সমস্যার সম্মুখীন কলকাতার বাসিন্দা শেখ রাজউদ্দিন, বৃষ্টি চৌধুরী সহ অনেকেরই।
প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর বিবেচনাধীন তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ছিল। জুডিশিয়াল অফিসাররা নথি খতিয়ে দেখার পর যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন তাঁরা। সোমবার থেকে ট্রাইব্যুনাল কাজ শুরু হওয়ার কথা জানতে পেরে প্রত্যেকেই সকাল থেকে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু একটা সময় বিষন্ন মুখ খালি হাতেই ফিরতে হয় তাঁদের।