দেশের অন্যতম বৃহৎ তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস বা TCS-এর নাসিকের BPO ইউনিটে মহিলা কর্মীদের যৌন হেনস্থা ও জোর করে ধর্মান্তকরণের অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় গোটা দেশ। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত আট কর্মীর সাতজনকে। কিন্তু একটি এত নামী কর্পোরেট সংস্থার অন্দরে দিনের পর দিন কী ভাবে এই ধর্মান্তকরণ ও যৌন হেনস্থার চক্র চলত? অভিযোগকারিণীদের বয়ান এবং পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে শিউরে ওঠার মতো তথ্য।
এই চক্রের মূল লক্ষ্য ছিল মূলত ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সি তরুণীরা। অভিযোগ, সংস্থায় কর্মরত অভিযুক্তরা প্রথমে অত্যন্ত সুকৌশলে ওই তরুণীদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং বৈবাহিক জীবনের নানা সমস্যার কথা জেনে নিত। এরপর সেই তাদের সেই ব্যক্তিগত দুর্বল বিষয়গুলিকেই হাতিয়ার করা হতো। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত মহিলাদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেল করা এবং ভয় দেখানো শুরু করত তারা। প্রেমের ফাঁদে ফেলে দিনের পর দিন ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন এক তরুণী।
ফাঁদে ফেলার পর শুরু হতো ধর্ম পরিবর্তনের জন্য ব্রেনওয়াশ। অভিযোগকারিণীদের দাবি, অফিসে কাজের মাঝেই তাঁদের জোর করে নমাজ পড়তে এবং রোজা রাখতে বাধ্য করা হতো। শুধু তাই নয়, ওই তরুণীদের শারীরিক গঠন এবং পোশাক নিয়েও দিনের পর দিন অশালীন মন্তব্য করত অভিযুক্তরা।
তাঁদের ধর্মীয় ভাবাবেগেও আঘাত করা হতো বলে অভিযোগ করেছেন মহিলা কর্মীরা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, শুধু মহিলাদেরই নয়, এক পুরুষ কর্মীকেও ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং জোর করে নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় আচার পালন করানো ও গোরুর মাংস খাওয়ানো হয় বলে অভিযোগ।
এই চক্র চালানোর অভিযোগে ইতিমধ্যেই যাদের গ্রেপ্তার করেছে নাসিক পুলিশ, তাদের মধ্যে রয়েছে— আসিফ আনসারি, শাফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন, তৌসিফ আত্তার এবং অশ্বিন চৈনানির নাম। পুলিশ জানিয়েছে, এদের অধিকাংশই সংস্থায় ওই অফিসে টিম লিডার এবং ইঞ্জিনিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন। উচ্চপদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেই তারা অধস্তন কর্মীদের উপরে প্রভাব খাটাত এবং এই জঘন্য অপরাধ চালিয়ে গিয়েছে।
ঘটনার খবর জানাজানি হতেই রবিবার অভিযুক্ত কর্মীদের সাসপেন্ড করেছে TCS। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, হেনস্থার বিষয়ে তাদের জ়িরো টলারেন্স বা শূন্য সহনশীলতার নীতি রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনও একটি বিবৃতি জারি করে সেই কথারই পুনরাবৃত্তি করেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘নাসিকের শাখা থেকে যে অভিযোগগুলি সামনে এসেছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং উদ্বেগজনক। টাটা গোষ্ঠী তার কর্মীদের কোনও রকম অসদাচরণ, জবরদস্তি বা হেনস্থার ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি মেনে চলে।’ দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার জন্য সংস্থার তরফ থেকে ইতিমধ্যেই একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।